DSF NEWS
ঢাকাMonday , 7 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আনদোলন
  5. আর্ন্তজাতিক
  6. উদ্ধার
  7. উদ্বোধন
  8. ক‌মি‌টি
  9. কৃষি
  10. খেলা
  11. খেলা ধুলা
  12. গণমাধ্যম
  13. জাতীয়
  14. টেক রিলেট
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মধ্যনগরের মামলায় ২৩ জনকে আসামি সাংবাদিক-শিক্ষকসহ , উঠেছে ‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর’ অভিযোগ

DSF NEWS
DSF NEWS
September 7, 2026 6:10 pm
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাহিরপুর উপজেলার সাংবাদিক, যুবদল কর্মী, স্কুলশিক্ষক, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ীসহ অন্তত ২৩ জনকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পবিত্র ওমরাহ পালনে মক্কায় অবস্থানরত এক ব্যক্তির নামও মামলায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযুক্তদের দাবি, মিছিলের সময় তারা কেউ ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রোশের কারণে তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সীমান্ত সড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন বলে জানা যায়। এ ঘটনায় সোমবার (৩১ আগস্ট) মধ্যনগর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। পরে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় সাংবাদিক, শিক্ষক ও যুবদল কর্মীর নাম

মামলায় তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের রতনশ্রী গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে এবং বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির ডিজিটাল প্রতিনিধি শওকত হাসান সৈকতের নাম রয়েছে।

এ ছাড়া কামড়াবন্দ গ্রামের মৃত ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে, বাদাঘাট বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী রাসেল আহমদ; দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে কাদের পাশা; বাদাঘাট ইউনিয়নের সোহালা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ; উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে এবং কলাগাঁও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক জাবের আহমদ জাবেদ এবং তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সিলেটের একটি এনজিওতে কর্মরত রাজন চন্দের নামও রয়েছে।

এ ছাড়া বাদাঘাট ইউনিয়নের পৈলনপুর গ্রামের আজহারুল ইসলাম সোহাগ, হাসান মিয়া, ইকবাল, ফারুক, বিপ্লব হাসান ইমন, জুয়েল আখুঞ্জি, শাহিন মিয়া, জিয়া উদ্দিন, সাজিদ মিয়া, আঙ্গুর মিয়া, শাখাওয়াত হোসেন শিপন, মিয়া হোসেন, সেলিম ভূঁইয়া, নাজির হোসেন, শাকিল আহমদ লিজান ও লিক্সন মিয়াসহ অন্তত ২৩ জন দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তারা মিছিলস্থলে ছিলেন না।

‘ব্যক্তিগত আক্রোশে মামলায় আসামি করা হয়েছে’

মামলার আসামি ও তাহিরপুর উপজেলা মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ বলেন, তিনি মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে একটি মহলের চক্রান্তের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার কারণে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা কিছু অসৎ লোক আমাকে এই মামলায় ফাঁসিয়েছে। তবে যতদিন বাঁচব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাব। এতে বিন্দুমাত্র পিছপা হব না।”

বাদাঘাট বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী রাসেল আহমদ বলেন, তিনি ব্যবসার পাশাপাশি যুবদলের সক্রিয় কর্মী। কিন্তু মামলায় তার নাম কীভাবে এসেছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

রাসেল আহমদ বলেন, “কারও ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে এমনটি করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।”

সাংবাদিক সৈকতের দাবি, ঘটনার সময় তিনি তাহিরপুরে ছিলেন

মামলার আসামি সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি ঘটনাস্থলেও ছিলেন না।

তিনি বলেন, “অন্য থানার একটি ঘটনায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। আমাকে আসামি করার কোনো কারণ আমি বুঝে উঠতে পারছি না।”

সৈকত আরও বলেন, উপজেলায় সক্রিয়ভাবে সাংবাদিকতা করার কারণে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে তাকে নিয়মিত সংবাদ করতে হয়। এ কারণে হয়তো উপজেলার বিএনপির কিছু নেতার কাছে তিনি বিরক্তির কারণ হয়ে থাকতে পারেন।

তার দাবি, একটি মিথ্যা মামলার কারণে গত সাত দিন ধরে তাকে ফেরারি জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

সাংবাদিক সংগঠনের নিন্দা

সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, সৈকত একজন সাংবাদিক। ঘটনার দিন তিনি নিজেও সংবাদ করেছেন এবং সেদিন তাহিরপুরে ছিলেন।

তিনি বলেন, তাহিরপুরে অবস্থান করে কীভাবে মধ্যনগরের মিছিলের মামলায় সৈকত আসামি হলেন, সেটি বোধগম্য নয়। তিনি সৈকতসহ নির্দোষ ব্যক্তিদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি করা না হয়, সে দাবি জানান।

ওমরাহ পালনরত ব্যক্তির নাম নিয়েও প্রশ্ন

এদিকে তাহিরপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাফিজ উদ্দিন এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার ও কারাবরণের ঝুঁকি জেনেই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন।

তবে তার দাবি, মামলায় এমন কিছু ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যাদের কেউ রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, কেউ সাংবাদিক, আবার কেউ পবিত্র মক্কায় অবস্থান করছিলেন কিংবা মিছিলের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিলেন না।

‘ভিডিওতে প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের দেখা যাচ্ছে’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, যারা মিছিলে অংশ নিয়েছেন, তাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তাদের বাদ দিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলার আসামি করা দুঃখজনক।

তার অভিযোগ, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার জন্য এমনটি করা হয়েছে।

আসামিদের তালিকা বিএনপি নেতাকর্মীরা দিয়েছেন: বাদী

আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মামলার বাদী শাহাজাহান মিয়া বলেন, তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা সমন্বয় করে আসামিদের তালিকা থানায় দিয়েছেন। এতে তিনি বাদী হয়েছেন।

তদন্তে প্রমাণ না মিললে নাম বাদ দেওয়ার কথা পুলিশের

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত মিছিলের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তা যথাযথভাবে যাচাই না করে কিংবা ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবস্থান বিবেচনায় না নিয়ে মামলা করা হয়েছে। এতে প্রকৃত জড়িতদের পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিরাও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, মামলার বাদী পুলিশ নয়, অন্য একজন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবে।

তিনি বলেন, তদন্তে কারও বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তার নাম বাদ দেওয়া হবে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।