মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও যুদ্ধের প্রভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছে কাতারের অর্থনীতি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির মোট রাজস্ব ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। মঙ্গলবার রাজধানী দোহায় শুরা কাউন্সিলের বার্ষিক উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এই তথ্য জানান। সৌদির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর। কোনো আপস করা হবে না: হুঁশিয়ারি কাতারের আমিরের।
আরও পড়ুন: সৌদির সুরক্ষায় এরদোয়ানকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করতে পারেন ট্রাম্প
আমির বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং রাস লাফান শিল্পনগরীর কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় সরাসরি হামলা হওয়ার কারণে দেশের রপ্তানির উল্লেখযোগ্য অংশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এলএনজি পরিবহনের প্রধান এই নৌপথ বন্ধ থাকায় এবং স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সরকারি অর্থব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে রাস লাফান স্থাপনাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরামকোর কমপ্লেক্সে হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সংকট সত্ত্বেও দেশের ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলো থেমে নেই বলে উল্লেখ করেন আমির। তিনি জানান, বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র নর্থ ফিল্ডের সম্প্রসারণ কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসারেই এগিয়ে চলেছে। পারস্য উপসাগরের তলদেশ থেকে ইরানের ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির বার্ষিক গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের এক্সনমোবিলের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত গোল্ডেন পাস এলএনজি প্রকল্পের কাজেও সন্তোষজনক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানান শেখ তামিম। চলতি সংকটের মুখেও এসব মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি কাতারের জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এলএনজি পরিবহনে এটাই ছিল কাতারের একমাত্র নৌপথ।
এর আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে চলতি বছর কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে এই সংকটের কারণে কাতার অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী।

