মোঃ শামীম হোসেন, খুলনা: খুলনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জিয়া হল চত্বরে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে খুলনাকে পুনরায় ঐতিহ্যবাহী শিল্পনগরী ও আধুনিক শিক্ষার মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন এমপি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনা নগরীর জিয়া হল চত্বরে (শিববাড়ি মোড়) খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম সেরা জাতিতে রূপান্তর করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, সেই গতি ও অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করার শক্তি আর কারও নেই।
খুলনার অতীত সমৃদ্ধির কথা স্মরণ করে আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন বলেন, খুলনা একসময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম প্রধান সমৃদ্ধ শিল্পনগরী ছিল। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এখানকার শিল্পকারখানাগুলো বন্ধ করে দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার খুলনাকে পুনরায় আধুনিক শিল্পনগরী, অর্থনৈতিক কেন্দ্র ও শিক্ষা নগরীতে পরিণত করতে বিভিন্ন সমন্বিত মহাপরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

খুলনা শিল্প ও শিক্ষা নগরী
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
তরুণ সমাজকে রক্ষার তাগিদ দিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খুলনা নগরীতে কোনো মাদক কারবারি বা তাদের সহযোগীদের জায়গা হবে না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
দেশজুড়ে এখনো একটি বিশেষ চক্রান্তকারী গোষ্ঠী নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চক্রান্তকারীদের মনে রাখতে হবে, রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলার মাটিতে আর কখনোই ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন বা জায়গা হবে না।
তিনি বলেন, দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেওয়া হবে।
সমাবেশে বিএনপির নেতৃবৃন্দ
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এমপি। বিশেষ বক্তা ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু।
বিশাল সমাবেশটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী।
এছাড়াও মহানগর ও জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের ঢল
এদিকে দুপুর থেকেই বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে খুলনা মহানগরী ও জেলা বিএনপির আওতাধীন প্রতিটি ওয়ার্ড, থানা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী নিজস্ব ব্যানার ও মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে সমবেত হতে থাকেন।
অতিথিরা আসার আগেই জিয়া হল চত্বর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সমাবেশের শুরুতে জাসাস নেতৃবৃন্দের কণ্ঠে কালজয়ী জাতীয় ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরবর্তীতে অতিথিরা আকাশে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে পূর্বনির্ধারিত পূর্ণাঙ্গ শোভাযাত্রার কর্মসূচি বাতিল করা হয়।
পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা
এর আগে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় প্রধান কার্যালয়, সব থানা, উপজেলা ও ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।


