আমির হোসেন স্টাফ রিপোর্টারঃ দীর্ঘ ৩বছর প্রবাসী জীবন কাঠিয়ে বিদেশ থেকে স্বামীর একাউন্টে ১৪লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেশে এসে ৪সন্তান নিয়ে শশুর বাড়ি কর্তৃক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন শিরিনা বেগম। শুধু তাই নয় শিরিনা বেগমকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে প্রাসন্ড স্বামী ও দেবর। একটু সুখের আশায় প্রবাসী জীবন কাঠিয়ে দেশে এসে ৪টি শিশু নিয়ে দুঃখের সাগরে ভাসছেন শিরিনা। নিজের উপার্জনের ১৪লক্ষ টাকা কাল হলো শিরিনা বেগমের। এমন কি মৃত্যুর ফাঁদে ফেলে হত্যার পরিকল্পনা করছে স্বামী দেবরসহ শশুর বাড়ির লোকেরা। ঘটনাটি ঘটে চলেছে সুনামগঞ্জ বিশ্বম্ভপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুরের পাশে সংগ্রাম পুর গ্রামে। এ ঘটনায় বিশ্বম্ভপুর থানায় নির্যাতিত শিরিনা বেগম একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু পুলিশ কেন অভিযোগটি আমলে নিচ্ছেন না সেটাই এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। প্রত্যক্ষদোষী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায় ঘটনাটি ঘটে গত ২৫মে ২০২৬ ইং রোজ সোমবার সন্ধ্যা অনুমান ৭ঘটিকায় শিরিনা বেগমের শশুর বাড়িতে।
জানা যায় বিগত ১৮ বৎসর পূর্বে স্বামী শাহজাহান মিয়ার সহিত পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শিরিনা। বিবাহের পর কিছুদিন সুখে শান্তিতেই সংসার করে আসছিলেন তারা। শিরিনার সংসারে ৪জন সন্তানাদি রয়েছে। কিছুদিন যেতে না যেতেই শশুর বাড়ির লোকেরা বিভিন্ন সময় শিরিনাকে মারধর করতো। চারটি সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে শিরিনা শুশুর বাড়ির লোকদের মানসিক শারীরিক নির্যাতন মুখবুজে সহ্য করতেন। শিরিনার স্বামী বাক প্রতিবন্ধি তিনি কোন কাজকর্ম করতেন না। সন্তানাদি নিয়া সংসার চালানো একপর্যায়ে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল শিরিনার। পরবর্তীতে স্বামী-সন্তান ও সংসারের সুখের জন্য সৌদি আবর প্রবাসে যান শিরিনা।
তিনি সৌদি রাষ্ট্রে গিয়ে কপি শপে চাকুরী করে ৩ বৎসরে আনুমানিক ১৪ লক্ষ টাকা স্বামীর একাউন্টে পাঠান। দেশে এসে স্বামীর কাছে ১৪লক্ষ টাকার হিসাব চাইতেই পাষন্ড স্বামী শাহজাহান ও দেবর লিটন শিরিনা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন শিরিনা বেগম বাচ্চাদের জন্য ঈদের জামা কাপড় কিনে বাজার থেকে বাড়িতে আসা মাত্রই স্বামী দেবরসহ শশুর বাড়ির লোকেরা মিলে শিরানা বেগমের ঘরে ডুকে তাকে মারধর শুরু করে। এসময় দেবর লিটন পিছন থেকে শিরিনা বেগমের গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।
শিরিনা বেগমের মেয়ে জুই ঘটনাটি দেখে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এসে শিরিনা বেগমকে উদ্ধার করে প্রাণে রক্ষা করে। পরে শিরিনা বেগমের স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা করে শিরিনার বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। এবং বিশ্বম্ভপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখনো কার্যকরী কোন প্রদক্ষেপ গ্রহন করেনি বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। প্রশাসন দ্রুত গতিতে তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলুক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাধারণ মানুষেরা।
এব্যপারে বিশ্বম্ভরপুর থানা ওসি তদন্ত ওলি আশরাফ জানান অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

