আমির হোসাইন স্টাফ রিপোর্টার: হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ, নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রথম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে সারোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও হাসান খানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় উপজেলার বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন তাহিরপুর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান খানের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সহসভাপতি ওবায়দুল মুন্সী এবং তাহিরপুর উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা আবুল হোসেন, এমদাদুল হক ও মাহবুব চৌধুরী।
সম্মেলনে বক্তারা হাওরাঞ্চলের প্রকৃতি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, নদ-নদী ও খনিজ সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাঁরা বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশের সঙ্গে নদ-নদী এবং হাওরের অস্তিত্ব ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এসব প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, কাজের ধীরগতি এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সাধারণ কৃষকসহ হাওরাঞ্চলের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে বোরো মৌসুমে কৃষকের একমাত্র ফসল রক্ষায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত বাঁধ নির্মাণ, প্রকল্পের যথাযথ তদারকি এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।
এ ছাড়া নদী দখল, অপরিকল্পিত বালু ও খনিজ সম্পদ উত্তোলন, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট এবং হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সম্মেলনে বক্তারা হাওর ও নদী রক্ষার আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে হাওরাঞ্চলের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে সর্বসম্মতিক্রমে ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট তাহিরপুর উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সারোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন হাসান খান।
সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবুল কালাম আজাদ, জিল্লুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, রিপচান হাবিব, ফখরুল ইসলাম ও শাহীন আলম।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অমিও হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া ও আল আমিন, অর্থ সম্পাদক রবিউল আউয়াল, বাঁধবিষয়ক সম্পাদক মনির হোসেন দুর্জয় ও আব্দুল জব্বার, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হক এবং প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক বাবুল মিয়া নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক রিপাত হাসান, আইন, নারী ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক শেখ তৌফিক হাসান, দুর্যোগ ও ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক আতিকুর রহমান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক সম্পাদক আলাল উদ্দিন, নদী ও খনিজ সম্পদবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম (বাদাঘাট), হাওর ও কৃষিবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এবং মিডিয়া ও যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম দায়িত্ব পেয়েছেন।
নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন নবী হোসেন, মোছাদ্দেক হোসেন, টিপু সুলতান, ইকবাল হোসেন, নাঈম তালুকদার, সাবজল মিয়া, রাসেল আহমদ, আশরাফুল ইসলাম সাদ্দাম, সামছু আহমেদ ও সফিকুল ইসলাম।
সম্মেলনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটির প্রতিনিধি, স্থানীয় সচেতন নাগরিক, পরিবেশপ্রেমী, সমাজকর্মী এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলন শেষে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ হাওর ও নদ-নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং হাওরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে নারীর চুল কেটে ও মরিচ ছিটিয়ে নিরাপত্তা ঘটনায়

