ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও সহযোগী সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভের জেরে দিল্লিতে যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। গত শনিবার আন্দোলনের প্রথম দিনে পুলিশ রাজধানী অচল করে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, তা বাতিলের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না বলেও আদালত নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ সিজেপির বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ সংক্রান্ত শুনানিতে এই নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনে বিধিনিষেধ আনা গেলেও তা ‘অত্যন্ত জরুরি’ না হলে সব ব্যারিকেড সরিয়ে নিতে হবে। এছাড়া ইন্টারনেট পরিষেবা আইন অনুযায়ী সচল রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মানুষের বিক্ষোভের অধিকার থাকলেও তা অবশ্যই পুলিশ আইনের আওতাভুক্ত হতে হবে। বিচারপতি বাগচী আবেদনকারী পক্ষকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের বিক্ষোভের অধিকার কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, সবকিছুকে এভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া যায় না। সুপ্রিম কোর্টের মতে, ‘আপনাদের বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার আছে—এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই, কিন্তু বিক্ষোভ প্রদর্শনের পদ্ধতিটি অবশ্যই পুলিশ আইনের মধ্যে হতে হবে। মোহনার বেঞ্চ বলেছে, সিজেপি’র বিক্ষোভের ডাক সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের শর্তসাপেক্ষে মানুষের অবাধ চলাচলের বিষয়টি স্বাভাবিক রাখা উচিত।
আরও পড়ুন: রোনালদোকে নভেম্বরেই ফেরাতে চান পর্তুগাল ফেডারেশন সভাপতি
তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে আদালত জানিয়েছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) ২০২৩-এর ১৬৩ নম্বর ধারা ব্যবহার করে যে বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তাও প্রত্যাহার করতে হবে। এর আগে শুক্রবার কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন ১০ অক্টোবর দিল্লিতে মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে কোনো ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ না থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ রাখার ঘটনাকে আবেদনকারী আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী আদালতের অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার সামগ্রিক পরিস্থিতি ও আটকের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে (ডিএমআরসি) নোটিশ দিয়েছে আদালত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী মঙ্গলবার নাগাদ এ বিষয়ে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট বা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশের ফলে সরকারের ওপর প্রবল অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

