আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন: অলিগলিতে সক্রিয় চাঁদাবাজির ভয়ংকর সিন্ডিকেট

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:19 am
Link Copied!

আজকাল অনেকের কাছেই প্রশ্ন রাখা হয়—আপনার পেশা কী, কীভাবে দিনযাপন করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই অসহায়ত্বের সুরে বলেন, অমুক ‘ভাই’য়ের সঙ্গে আছি। এই ‘ভাই’ পরিচিতিটি এখন এলাকায় ত্রাসের অপর নাম। তারা মাস্তান হিসেবে পরিচিত হলেও নেপথ্যে বড় ধরনের চাঁদাবাজি ও দখলবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন। এদের ভয়ে সাধারণ মানুষ তটস্থ, ব্যবসায়ীরা কারখানা চালাতে গিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ব্যাংক ঋণ থেকে শুরু করে ফুটপাতের ছোট ব্যবসা—সবখানেই রয়েছে এই চাঁদাবাজদের নজরদারি। ব্যাংক ম্যানেজারদের শাসিয়ে রাখা থেকে শুরু করে প্রকল্পের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের সঙ্গে সমঝোতা করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। আসলে ‘ভাই’ কী করেন এলাকার সবাই জানেন। বিখ্যাত চাঁদাবাজ হিসেবে তার নাম চারদিকে। নতুন কোনো শিল্পকারখানা গড়ার চেষ্টা করছেন না অনেকে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার ঝুঁকি

চাঁদাবাজির এই মহামারি শুধু শহর বা বন্দরেই সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম-গঞ্জেও। শাসকদল পরিবর্তন হলেও এই নেটওয়ার্কের কাঠামো খুব একটা বদলায় না, বরং নতুন রূপে আবির্ভূত হয়। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সর্বত্রই কিশোর গ্যাং ও অস্ত্রধারীদের ব্যবহার করে আধিপত্য বিস্তার করা হচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে মব সন্ত্রাস ও দখলবাজির ঘটনা জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধেও সাম্প্রতিক সময়ে দখলবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠছে, যার ফলে কিছু ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জে সব জায়গাতে একই চিত্র।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতা মামলায় ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার দুই

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তার তালিকায় ২০তম অবস্থানে বাংলাদেশ

বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির এই দৌরাত্ম্যের মূলে রয়েছে প্রশাসনিক দুর্বলতা। স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা প্রায়ই ‘ভাই’দের নিয়ন্ত্রণে থাকেন। সহযোগিতা না করলে বদলি বা ওএসডি হওয়ার ভয়ে অনেক কর্মকর্তা নিষ্ক্রিয় থাকেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, আপনারা পুলিশকে দোষারোপ করেন যে আমরা দেখেও দেখি না। কিন্তু পোস্টিং ও প্রমোশন কেনাবেচার যে চক্র রয়েছে, তাতে বিনিয়োগ করা পুঁজি ওঠাতে অনেক অফিসারকেও চাঁদাবাজদের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে হয়। ব্যাংক থেকে কবে, কখন, কাকে ঋণ দেয়া হচ্ছে এই নেটওয়ার্কও চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণে। লোন হওয়ার প্রক্রিয়া চলামাত্রই খবর দিতে হবে।

শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজি চরমে ওঠায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও চরম অস্থিরতায় ভুগছেন। তাদের শুধু মাসোহারা দেওয়াই নয়, অনেক সময় ‘ভাই’দের নিম্নমানের পণ্য কিনতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া বিদেশগামী বাংলাদেশিদের ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রেও এই নেটওয়ার্কের ইশারা ছাড়া কিছুই সম্ভব হয় না। এমনকি কবরের মাটি পাওয়ার ক্ষেত্রেও স্থানীয়ভাবে এই সিন্ডিকেটের অনুমতি নিতে হয়। আগেকার দিনে কমিশন বা চাঁদার টাকা বিদেশি ব্যাংকে জমা হতো, কিন্তু বর্তমান সময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ছে। এতে ঝুঁকি কম মনে করে অপরাধীরা পর্দার আড়ালে বড় ধরনের লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ে জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপরের তলায় খবর পাঠায়-স্যার, তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। শিল্পপতিরা মাস শেষে তাকে সম্মানী পাঠান।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।