আজকের সর্বশেষ সবখবর

এসএসসি ও এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরীক্ষার উদ্যোগ

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:16 am
Link Copied!

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন সুরক্ষায় সম্পূরক পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সরকারের ইতিবাচক ও নীতিগত অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের পরপরই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই পরীক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যেই পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় মতামত দেওয়া হয়েছে। এ বছরই এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই সুযোগ চালুর সম্ভাবনা দেখছেন নীতিনির্ধারকেরা। খবর জানাচ্ছে, বোর্ডগুলো তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত আছে।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১

চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট ৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে, যা সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় উদ্বেগের বিষয়। বর্তমানে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা পরবর্তী বছরে শুধু অকৃতকার্য বিষয়ে বা সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেলেও এতে তাদের একটি বছর নষ্ট হয়ে যায়। নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত ব্যয় ও মানসিক চাপ কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রতিবছর নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা আয়োজন ও প্রশ্নপত্র প্রণয়নজনিত জটিলতাও হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমনও দেখা যায়, সব বিষয়েই ভালো নম্বর পেয়েছেন, কিন্তু একটি বিষয়ে কোনো বিশেষ কারণে পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় গোটা একটি বছর নষ্ট হয়।

আরও পড়ুন: ইসরাইলি কারাগারে দুই বছরে দুই হাজার ফিলিস্তিনি শিশু আটক

ভারত ও পাকিস্তানের মতো বিশ্বের অনেক দেশে পাবলিক পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া দেরিতে শুরু হলেও এটি একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে নতুন এই পদ্ধতি প্রবর্তনের আগে সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই। পরীক্ষার নিয়ম, মূল্যায়ন পদ্ধতি, ফল প্রকাশের সময়সীমা এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে আগেভাগেই স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। অপরিকল্পিতভাবে এই উদ্যোগ নিলে নতুন কোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষাবিদরা।

পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় স্থানান্তর করার বিষয়ে যে মন্তব্য এসেছে, সেটিকে শিক্ষার্থীদের ওপর বাধ্যতামূলক চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তাদের এবং অভিভাবকদের সম্মতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মূলত পাবলিক পরীক্ষার উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শাস্তি প্রদান নয়, বরং তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন করা। একটি বা দুটি বিষয়ে ব্যর্থতার কারণে যাতে কোনো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে একটি শিক্ষাবর্ষ হারিয়ে না যায়, সেই লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শিক্ষার্থী-বান্ধব ও বাস্তবসম্মত করার দাবি দীর্ঘদিনের। নতুন এই ব্যবস্থার সঠিক বাস্তবায়নে অংশীজনদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক নীতিমালা দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, নতুন এই ব্যবস্থা চালুর আগে শিক্ষাবিদ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকেও আরও শিক্ষার্থীবান্ধব ও বাস্তবসম্মত করতে হবে।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।