মোঃ রাকিব হোসেন, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুর জেলা পরিষদের নামে ২৫.৭৫ শতাংশ জমি দানের উদ্যোগকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় এক ব্যতিক্রমী ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জেলা পরিষদের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ব্যক্তি উদ্যোগে জমি দানের এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল যা বাংলাদেশে এই প্রথম জেলা পরিষদের নামে জমি দান। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের আন্তরিক প্রচেষ্টা, তদারকি ও সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে।
গাজীপুর জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জমি দানের অঙ্গীকারনামা হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে জমির মালিক মো. জহিরুল ইসলাম তাঁর স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামা প্রধান অতিথি গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম ফজলুল হক মিলন এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী এর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান।
আবেদনে মো. জহিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গাজীপুর মহানগরের জরুন ৭ নম্বর ওয়ার্ড একটি শিল্পসমৃদ্ধ ও জনবহুল এলাকা। এখানে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস হলেও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই চাহিদা পূরণে তিনি তাঁর মরহুম পিতা হাজী সফিজ উদ্দিনের নামে ‘হাজী সফিজ উদ্দিন নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ এবং ‘হাজী সফিজ উদ্দিন তাফসীরুল কুরআন মাদ্রাসা’ নির্মাণের জন্য গাজীপুর জেলা পরিষদকে ২৫.৭৫ শতাংশ জমি দান করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় দলিল সম্পাদনেরও অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
আবেদনপত্রে দানকৃত জমির বিস্তারিত তফসিল উল্লেখ করা হয়েছে। জমির মৌজা—মিরপুর। এস.এ. খতিয়ান নং-২৬৪ ও ১৯৫, আর.এস. খতিয়ান নং-৫১৫ ও ৩৪৬। এস.এ. দাগ নং-৭৩৬, ৭৪২ ও ৭৪৩ এবং আর.এস. দাগ নং-১৫৭৫, ১৫৭৩ ও ১৫৭২। জমির মোট পরিমাণ ২৫.৭৫ শতাংশ।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জনকল্যাণমূলক এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকীর দিকনির্দেশনায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম শুরু থেকেই সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর সার্বিক সমন্বয় ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই জমি দানের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ও ধর্মীয় শিক্ষার মতো জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে জেলা পরিষদের নামে জমি দান সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গাজীপুর মহানগরের জরুন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষাধিক মানুষ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জনস্বার্থে ব্যক্তি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: ইজারা নিয়েও ফাজিলপুর ঘাটের সম্পূর্ণ দখল না পাওয়ার অভিযোগ ইজারাদার রেজুয়ানের
আরও পড়ুন: বন্যাকবলিত মানুষের পাশে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল ওয়াহাব সাইদানী

