মুহাম্মদ এমরান লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বহু পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ মঈন উদ্দিন এর উদ্যোগে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন খন্দকার তত্ত্বাবধানে এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সার্বিক সহযোগিতায় পাহাড় ধসে বাড়ি ভেঙে যাওয়া ১০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
সহায়তা কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, মরিচ, আলু, পেঁয়াজ, হলুদ, মসলা, মুড়িসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুঃসময়ে পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।
উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।
খাদ্যসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে পাওয়া এই সহায়তা তাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগাবে।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে কোনো পরিবার দুর্যোগের কারণে অসহায় অবস্থায় পড়ে না থাকে।
ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন খন্দকার বলেন, “সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেসব পরিবার বসতঘর হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। প্রশাসনের নির্দেশনা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

