শফিকুল ইসলাম সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রাজাই গ্রামে আঙ্গুর মিয়া (৪৫) নামে এক হতদরিদ্র ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাকে বিজিবির সোর্স সন্দেহে হত্যা করেছে চোরাকারবারিরা। এ ঘটনায় পুরো সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আঙ্গুর মিয়া উপজেলার রাজাই গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৬ মে) রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে রাজাই মিশন স্কুল সংলগ্ন বারিক্কার টিলা থেকে বড়ছড়া সড়কের পাশে মরদেহ ফেলে রেখে যায়।
রবিবার (১৭ মে) সকালে স্থানীয় লোকজন রাস্তার নিচে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া এবং বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেন।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় চোরাকারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে আঙ্গুর মিয়াকে বিজিবির তথ্যদাতা সন্দেহে হুমকি দিয়ে আসছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, আঙ্গুর মিয়া অত্যন্ত দরিদ্র ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তিনি কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ঘটনার পর পুরো সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তজুড়ে চোরাচালান ও অপরাধচক্রের তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাহিরপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

