যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ও খাতে মোট ৪৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৭৩০ কোটি ডলারের বৈদেশিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এই বিশাল সহায়তার মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা খাতে ৭৩১ কোটি, স্বাস্থ্য খাতে ১ হাজার ৯৩ কোটি, মানবিক কার্যক্রমে ৮৯৯ কোটি এবং অন্যান্য খাতে ২ হাজার ৭ কোটি ডলার ব্যয় করেছে মার্কিন প্রশাসন। সহায়তাপ্রাপ্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ ২০তম স্থানে রয়েছে। দেশটি এই অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার সহায়তা পেয়েছে। ফলে মোট সহায়তা দাঁড়ায় প্রায় ৬৬৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বৈদেশিক সহায়তার তথ্যভান্ডার ফরেন অ্যাসিস্ট্যান্স ও পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এই চিত্র। তবে কোনো অর্থবছরে অর্থছাড় মানেই ওই বছরেই নতুন করে সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে—এমন নয়। আগের বছর অনুমোদিত অর্থও পরবর্তী অর্থবছরে ছাড় হতে পারে। এই তালিকায় আরও রয়েছে দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া, পশ্চিম তীর ও গাজা, কলম্বিয়া, তানজানিয়া, লেবানন, আফগানিস্তান, জাম্বিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
আরও পড়ুন: নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন: অলিগলিতে সক্রিয় চাঁদাবাজির ভয়ংকর সিন্ডিকেট
আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ: ঢাকা থেকে বাতিল ৫ ফ্লাইট
তালিকায় সবচেয়ে বড় সহায়তা গ্রহণকারী দেশ হিসেবে শীর্ষস্থানে রয়েছে ইউক্রেন। দেশটিকে ২০২৫ অর্থবছরে মোট ৬৭০ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬৯ কোটি ডলার সামরিকবহির্ভূত এবং ১০১ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা হিসেবে গণ্য। তবে এটি বিবেচনায় রাখা জরুরি যে, ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দকৃত এই অর্থছাড়কে পুরোপুরি ওই বছরের একক নতুন সহায়তা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইসরায়েলকে দেওয়া ৩৩১ কোটি ডলারের সহায়তার ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশই ছিল সামরিক খাতের। তৃতীয় স্থানে থাকা জর্ডান পেয়েছে প্রায় ১৬৫ কোটি ডলার, যার প্রায় ৭৪ শতাংশ ছিল অ-সামরিক বা বেসামরিক সহায়তা।
বৈদেশিক সহায়তার শীর্ষ ১০ গ্রহীতার তালিকায় আফ্রিকার দেশগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট। তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকা ইথিওপিয়া পেয়েছে প্রায় ৯২ কোটি ডলার। এছাড়া গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ৭৫ কোটি ডলার, নাইজেরিয়া ৭৩ কোটি ডলার, সুদান ৭১ কোটি ডলার, কেনিয়া ৬৫ কোটি ডলার, মোজাম্বিক ৫৮ কোটি ডলার এবং উগান্ডা ৫১ কোটি ডলার সহায়তা লাভ করেছে। সামগ্রিক বিবেচনায় শীর্ষ ১০ গ্রহীতা দেশের মধ্যে সাতটিই আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বজুড়ে আমেরিকার এই সহায়তা কার্যক্রম বিভিন্ন দেশের আর্থ-সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

