আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজশাহী মেডিকেলের ভিসিকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় মামলা

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:20 am
Link Copied!

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে মব বা সংঘবদ্ধ দল সৃষ্টি করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে এই মামলাটি করেন। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে আব্দুস সালাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যিনি রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানা বিএনপির স্থগিত কমিটির সহ-সভাপতি। মামলার বাদী নাজমুল হোসাইন জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর থেকে তারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। তদন্তের ভিত্তিতে অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। আজ সকালে পুলিশ একজনকে আটক করেছে বলে জেনেছি। ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঘটনা নিয়ে ওইদিন বিকালে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রেস্ট হাউজে সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্য ডা. মোহা।

আরও পড়ুন: কাতারে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রি, সাকুরা সুপারমার্কেট ১০ দিন বন্ধ

আরও পড়ুন: বিদায়ী বক্তব্যে বললেন মেসি: দীর্ঘ ২১ বছরের ক্যারিয়ারে ইতি

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা উপাচার্য এবং সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তারা অভিযোগ তোলে যে, ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ঢাকার ঠিকাদারদের দিচ্ছেন এবং রাজশাহীর স্থানীয়দের বঞ্চিত করছেন। এরপরই আগে থেকে লিখে আনা পদত্যাগপত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পর উপাচার্য ও সেকশন অফিসারকে কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আপনি রাজশাহীর মানুষকে কাজ দেন না, ঢাকার মানুষদের কাজ দেন।

উপাচার্য ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক জানান, ওই সময় বিশৃঙ্খলার শব্দ শুনে তিনি সতর্ক হয়েছিলেন। পরে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পিয়নদের ধাক্কা দিয়ে তার দপ্তরে ঢুকে পড়ে এবং কঠোর ভাষায় চেয়ার থেকে উঠে আসতে বাধ্য করে। তিনি বলেন, ‘পদত্যাগপত্রটি তারা আগেই টাইপ করে নিয়ে এসেছিল। পরিস্থিতি এমন ছিল যে স্বাক্ষর না করলে হয়তো আরও খারাপ কিছু ঘটতে পারত।’ এই ঘটনার সময় উপাচার্যের কক্ষ থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এছাড়া পুরো ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাকে গালমন্দ করা হয় বলেও ভুক্তভোগী উপাচার্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মিটিং চলাকালে বাইরে হট্টগোলের শব্দ শুনতে পাই। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, আমি স্বাক্ষর না করলে অন্যদের মতো আমার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করতে পারে- এমন আশঙ্কা ছিল।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।