মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা সংকটের মাঝে সৌদি আরবে নিজস্ব সেনা উপস্থিতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দিক থেকে আসা হামলা ও আঞ্চলিক ঝুঁকি মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত সামরিক পরিস্থিতির মুখে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনার উপস্থিতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাং দমনে সাঁড়াশি অভিযান: আটক প্রায় ৫০০
আরও পড়ুন: প্যারিসে ব্যাংক অব আমেরিকায় ব্যর্থ হামলার নেপথ্যে ইরানপন্থি নেটওয়ার্ক
রিয়াদে জরুরি বৈঠক ও সিদ্ধান্ত
একটি যৌথ বিবৃতির বরাতে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর (সোমবার) রাতে রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি জরুরি বৈঠকে এই তিন দেশের যৌথ সামরিক শক্তি অবিলম্বে সৌদি আরবে মোতায়েনের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসে।
আরও পড়ুন: সাহিত্যে নোবেলজয়ী অ্যান কার্সনের সাথে মেরিলিন মনরোর যোগসূত্র
আইএসপিআর প্রধানের বক্তব্য
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, কয়েক দশক ধরেই পাকিস্তানি সেনারা ভিন্ন ভিন্ন সক্ষমতা নিয়ে সৌদি আরবে অবস্থান করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গত ৭ আগস্ট সম্পাদিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ হঠাৎ করে বা কোনো শূন্যতা থেকে তৈরি হয়নি, বরং এটি দীর্ঘদিনের গভীর কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের ধারাবাহিক ফল।
রয়টার্সের দাবি ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
- বার্তা সংস্থা রয়টার্স পূর্বে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, সৌদির সীমান্ত সুরক্ষা এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে ৩০ থেকে ৪০ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য নিয়োজিত করা হয়েছে।
- পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রয়টার্সের এই সেনা সংখ্যার দাবিকে সম্পূর্ণ ‘অনুমানভিত্তিক’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।
- একই সঙ্গে ইসলামাবাদ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে সরাসরি কোনো পাকিস্তানি সৈন্য পাঠানো হবে না।

