আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাহিত্যে নোবেলজয়ী অ্যান কার্সনের সাথে মেরিলিন মনরোর যোগসূত্র

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:19 am
Link Copied!

কানাডার প্রখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন ২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন। ধ্রুপদি সাহিত্যের সঙ্গে সমসাময়িক সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি বিশ্বসাহিত্যে নতুন ধারা তৈরি করেছেন। তাঁর এই সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে নোবেল সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। অ্যান কার্সনের কর্মযজ্ঞে মেরিলিন মনরোর প্রতি তাঁর বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি সাহিত্যের জগতে এক স্বতন্ত্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন: রান্নাঘর পরিষ্কারের সময় নোবেল জয়ের খবর পেলেন অ্যান কারসন

হলিউডের স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি তারকা মেরিলিন মনরোকে নিয়ে অসংখ্য গবেষণা, সিনেমা ও সাহিত্য রচিত হয়েছে। তবে অ্যান কার্সন মেরিলিনকে যখন আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন গ্রিক পুরাণের এক চরিত্র হেলেন অব ট্রয়ের সঙ্গে তুলনা করেন, তখন বিষয়টি নতুন এক মাত্রায় পৌঁছায়। কার্সনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ‘নর্মা জিন বেকার অব ট্রয়’-এর মূল ভিত্তিই হলো এই দুই নারীবাদী সংলাপে তাঁদের মিল খুঁজে পাওয়া। সিনেমার ভক্তরা জানেন, নর্মা জিন বেকার ছিল মেরিলিন মনরোর জন্মগত নাম। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের দ্য শেডের গ্রিফিন থিয়েটারে কাব্যনাট্যটি মঞ্চস্থ হয়। এই প্রযোজনায় অভিনয় করেছিলেন বেন উইশ ও সোপ্রানো রেনে ফ্লেমিং, আর নাটকটি পরিচালনা করেছিলেন কেটি মিচেল। ২০১৯ সালে মঞ্চে আসা এই কাব্যনাট্যে কারসন একদিকে রেখেছেন মেরিলিন মনরোকে, অন্যদিকে গ্রিক পুরাণের হেলেন অব ট্রয়কে। মেরিলিন মনরোকে নিয়ে পৃথিবীতে কম লেখা হয়নি। কিন্তু মেরিলিনকে যখন প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের গ্রিক পুরাণের এক নারীর সঙ্গে পাশাপাশি বসান একজন সাহিত্যিক, তখন গল্পটি হয়ে ওঠে অন্য রকম।

আরও পড়ুন: সৌদিতে সামরিক উপস্থিতি ও নতুন চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে মুখ

কার্সনের দৃষ্টিতে, বিংশ শতকের হলিউডের আবেদনময়ী তারকা মেরিলিন মনরো এবং প্রাচীন গ্রিসের সুন্দরী নারী হেলেনের মধ্যে একটি গভীর মিল রয়েছে। সৌন্দর্য ও সম্মোহনী আকর্ষণের কারণে তাঁদের দুজনকেই তাঁদের সময়ের মানুষের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টির কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে। হেলেনকে নিয়ে যেখানে ট্রয়ের যুদ্ধের ইতিহাস রচিত হয়েছে, সেখানে মেরিলিনকে দেখা হয়েছে সেক্স সিম্বল হিসেবে। উভয় ক্ষেত্রেই তাঁদের ব্যক্তিগত সত্তার চেয়ে শারীরিক সৌন্দর্য ও অন্যের চোখে তৈরি হওয়া ভাবমূর্তি বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। কার্সন তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে এই বিষয়টিকে বড় প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছেন।

অ্যান কার্সনের সাহিত্যজগৎ মূলত প্রাচীন গ্রিক ও রোমান পুরাণ এবং ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তিনি কবিতা, গদ্য, নাটক, অনুবাদ ও সমালোচনার প্রথাগত সীমানা মুছে নতুন এক শৈলী তৈরি করেছেন। তাঁর ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’, ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ ও ‘মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স’-এর মতো বইগুলো বিশ্বজুড়ে পাঠকদের কাছে সমাদৃত। ধ্রুপদি সাহিত্যের আদলে সমকালীন জীবন ও লিঙ্গরাজনীতিকে বিশ্লেষণ করাই কার্সনের লেখনীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।