আজকের সর্বশেষ সবখবর

পটিয়ায় দুই ইউনিয়নের রশি টানাটানিতে চরম দুর্ভোগে ৩০ পরিবার

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:16 am
Link Copied!

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আশিয়া ও কাশিয়াইশ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পিঙ্গলা শেখপাড়া এলাকার ৩০টি পরিবারের যাতায়াত ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। প্রায় ১৫ বছর আগে খালের পানিতে মূল সড়কটি তলিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা বিকল্প হিসেবে তিনটি সাঁকো নির্মাণ করেন। তখন থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকোই তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। বছরের ছয় মাস এসব সাঁকোর নিচ দিয়ে হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু এই ৩০ পরিবারই নয়, আশিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষও বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড ও আশিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী পিঙ্গলা শেখপাড়া এলাকায় চলাচলের পথে তিনটি সাঁকো থাকায় মানুষের যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এর পর থেকে জনপ্রতিনিধিরা আসা-যাওয়া করলেও ভাগ্য বদলায়নি ওই এলাকার ৩০ পরিবারের। প্রায় ১৫ বছর ধরে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও তা দেখার কেউ নেই।

আরও পড়ুন: সৌদির সুরক্ষায় এরদোয়ানকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করতে পারেন ট্রাম্প

এলাকাবাসী জানান, পিঙ্গলা আহমদিয়া কাদেরিয়া সুন্নীয়া মাদরাসা, পিঙ্গলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হজরত শেখ মুনছুর আউলিয়া ও নূর উদ্দীন শাহ জামে মসজিদে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে জনপ্রতিনিধিদের রশি টানাটানির কারণে দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে এই দুর্দশার কোনো সুরাহা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন জানান, আট বছর আগে সাঁকো পার হওয়ার সময় মো. সেলিম নামে এক যুবক পড়ে গিয়ে পঙ্গু হয়ে গেছেন। মো. রফিক ও আলমগীরসহ ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজ শেষ পর্যন্ত আর আগায় না। দুই ইউনিয়নের সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় কেউই দায়িত্ব নিতে রাজি নন বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয় আলমগীর ও মো. রফিক অভিযোগ করে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা এখানে এসে বারবার আশ্বাস দিয়ে যান, কিন্তু তাদের দুর্ভোগের অবসান হয় না।

এই বিষয়ে পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ জানান, সড়কটি এলজিইডির তালিকাভুক্ত বা আইডিভুক্ত না হওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সড়কটি আইডিভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইডিভুক্ত হওয়ার পর পরবর্তী উন্নয়ন প্রকল্পে এটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানিয়েছেন, স্থানীয়দের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো আবেদন না পাওয়ায় আগে বিষয়টি সেভাবে নজরে আসেনি। তবে তিনি দাবি করেছেন, আবেদন পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসী এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাই আমাদের কোনো উন্নয়ন প্রকল্পেও এর পরিকল্পনা নেই।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।