প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পেছনে যেমন দুজনের সমান আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা কাজ করে, তেমনি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও দুপক্ষেরই সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। অনেক সময় সম্পর্কের গভীরতা সময়ের সাথে সাথে ম্লান হতে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি হুট করে ঘটে না, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা, বোঝাপড়ার অভাব ও ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝির পাহাড় জমে যখন সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়, তখনই ফাটল দেখা দেয়।
আরও পড়ুন: রিয়াদে হুতি হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তে উদ্যোগ
সম্পর্কে দূরত্ব তৈরির অন্যতম একটি প্রধান কারণ হলো পর্যাপ্ত সময়ের অভাব। ব্যস্ত জীবনের দোহাই দিয়ে একে অপরকে সময় না দেওয়া বা যোগাযোগের অভাব সঙ্গীর মনে একাকীত্ব তৈরি করে। যখন দুজন মানুষ একে অপরের দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো বিষয় বা আবেগগুলো ভাগ করে নেওয়া বন্ধ করে দেন, তখন মানসিক দূরত্ব বাড়তে থাকে। একে অপরের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া বা গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে সম্পর্কে এক ধরনের স্থবিরতা চলে আসে।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরের মাদ্রাসায় শিশুদের শিকলে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় তোলপাড়
এছাড়া, একে অপরের প্রতি সম্মানবোধের ঘাটতি সম্পর্কের বড় শত্রু। সঙ্গীকে ছোট করা, প্রতিনিয়ত সমালোচনা করা বা কোনো কিছুতেই প্রশংসা না করার মানসিকতা সম্পর্কের স্বতঃস্ফূর্ততা নষ্ট করে। অনেক সময় নিজেদের মনের না বলা কথাগুলো স্পষ্ট করে না বলার কারণেও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। মনে মনে ক্ষোভ পুষে রাখা বা সঙ্গীর ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশা চাপিয়ে দেওয়ার ফলে সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।
প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারও বর্তমান সময়ের সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ার একটি বড় কারণ। পাশাপাশি বসে থাকলেও যখন দুজন মানুষ ফোনের স্ক্রিনে মগ্ন থাকেন, তখন একে অপরের সাথে গুণগত সময় কাটানো সম্ভব হয় না। এতে পারস্পরিক অনুভূতির আদান-প্রদান কমে যায়। দাম্পত্য বা প্রেমের সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। ছোট ছোট বিষয়ে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা ও একে অপরকে বোঝার চেষ্টা সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। সম্পর্কের এই তিক্ততা দূর করতে চাইলে নিজেদের ভুলগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।

