মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টারঃ নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ফারুক আল ফাহাদ। নিজ জন্মভূমির মানুষের সেবা করার প্রত্যয় নিয়ে ইতোমধ্যে তিনি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাও শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ফারুক আল ফাহাদ আরবি শিক্ষার পটভূমি থেকে উঠে এলেও ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি অনুরাগ থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানান।
ওয়ার্ড পর্যায়ের ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ২০১২ সালে তিনি বুড়িরচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে তাঁকে নিজ এলাকা ছেড়ে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে অবস্থান নিতে হয়। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রাজনীতির মাঠ থেকে সরে যাননি তিনি; বরং জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়ে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে ধর্মীয় ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন ফারুক আল ফাহাদ। দলীয় কর্মসূচিতে উদ্বোধনী কোরআন তিলাওয়াত, গায়েবানা জানাজা ও দোয়া মাহফিল পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
২০১৯ সালে তিনি নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিহত নেতাকর্মীদের জানাজায় ইমামতি করা। এ ছাড়া বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে নিজের ভাইসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
২০২২ সালে নোয়াখালীতে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত পদযাত্রায় উদ্বোধনী কোরআন তিলাওয়াত করেন ফারুক আল ফাহাদ। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে এ কর্মসূচি তাঁর রাজনৈতিক পথচলার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি নোয়াখালী জেলা জিয়া মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা ওলামা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা প্রযুক্তি দলের সভাপতি এবং জেলা অনলাইন ফোরামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ওলামা দলের ধানের শীষের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বিভাগীয় টিমের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক এ ছাত্রনেতা।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ফারুক আল ফাহাদ বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখতাম। সেই স্বপ্ন থেকেই রাজনীতিতে আসা। একজন রাজনীতিবিদের জন্য জনপ্রতিনিধি হওয়া বড় একটি অর্জন। সে কারণেই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চাই। নির্বাচিত হতে পারলে অবহেলিত বুড়িরচরবাসীর সেবা করতে চাই।
দলীয় সমর্থনের বিষয়ে তিনি বলেন, “দল আমাকে যোগ্য মনে করলে সমর্থন দেবে, ইনশাআল্লাহ। আমি সেই সমর্থনের মর্যাদা রক্ষা করতে পারব বলে বিশ্বাস করি। আশা করি, সব দিক বিবেচনা করে বুড়িরচরের সাধারণ মানুষও আমাকে সমর্থন দেবেন, ইনশাআল্লাহ।”
বুড়িরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশের মধ্য দিয়ে ফারুক আল ফাহাদ নিজের রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে চাইছেন। দীর্ঘদিনের দলীয় সম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য।
তবে চেয়ারম্যান পদে তাঁর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়া, বিএনপির আনুষ্ঠানিক সমর্থন পাওয়া এবং নির্বাচনে স্থানীয় ভোটারদের সমর্থন অর্জন—সবই নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী পরিস্থিতির ওপর।
রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বুড়িরচর ইউনিয়নের মানুষের সেবা করতে চান ফারুক আল ফাহাদ। এখন দেখার বিষয়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাঁর এই প্রত্যাশা কতটা বাস্তব রূপ পায়।
আরও পড়ুন: চাটখিলে ১৬ লাখ টাকা নিয়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ী, ৪ দিন পর লালমাই থেকে উদ্ধার

