DSF NEWS — চীনের অনুকূল মনোভাব এখন বিশ্বের অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। এটি গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
পিউ রিসার্চ সেন্টার ২০২৫ সালের বসন্তে ২৪-২৫টি দেশে হাজারো মানুষের ওপর জরিপ চালায়। ফলাফলে দেখা গেছে, মধ্যম হিসেবে ৪৯% মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে অনুকূলভাবে দেখেন, যেখানে চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৩৭%। তবে এই ব্যবধান দ্রুত কমছে। অনেক দেশে চীনের অনুকূল মনোভাব বেড়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কমেছে।
কোন দেশগুলোতে চীন এগিয়ে?
জরিপ অনুসারে সাতটি দেশে চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো (৫৬% চীন বনাম ২৯% যুক্তরাষ্ট্র), দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক, কেনিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া। মধ্যম আয়ের এসব দেশে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেশি।
অন্যদিকে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলতা ৮৩%, চীন মাত্র ৩৩%। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের মতো চীনের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও অনেক এগিয়ে।
গ্যালাপ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক জরিপেও অনুরূপ প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালে চীনের নেতৃত্বের অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি ছিল বলে জানানো হয়েছে।
কেন বাড়ছে চীনের অনুকূল মনোভাব?
বিশ্লেষকরা মনে করেন, চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। অনেকে চীনকে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখছেন (মধ্যম ৪১% বনাম যুক্তরাষ্ট্র ৩৯%)।
তবে সামগ্রিক ছবিটি এখনও মিশ্র। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে চীনের প্রতি মনোভাব তুলনামূলকভাবে নেতিবাচক। দুই দেশের প্রতিই অনেকের আস্থা কম।
সম্পর্কিত খবর: বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের উত্থান | যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব
আরও পড়ুন: পিউ রিসার্চ সেন্টারের পূর্ণ প্রতিবেদন (বহির্গামী লিঙ্ক)
আঞ্চলিক পার্থক্য
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিবেশী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে বেশি পছন্দ করে। আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় চীনের অনুকূল মনোভাব বেশি লক্ষণীয়। এই পরিবর্তনগুলো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জরিপের ফলাফল সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘটনাগুলো এই মনোভাবকে আরও প্রভাবিত করছে।

