মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের বড় রাংটিয়া এলাকায় সরকারি বনভূমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল (৩ জুন বুধবার) ও বিভিন্ন সময়ে বন বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে পাকা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি নির্মাণের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাংটিয়া রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ অফিসার মো. আব্দুল করিমের জ্ঞাতসারেই এসব কর্মকাণ্ড চলছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল বন বিভাগের জমি দখল করে বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে আসছে। এর ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে সরকারি বনভূমি, যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং শেরপুরের সীমান্তবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে।
এমনকি অভিযোগ উঠেছে, রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিমের ছত্রচ্ছায়ায় গারো পাহাড় ধ্বংস করে বালু পাথর লোপাটের পর এখন বনভূমি উজাড় করে কাঁচাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তিনি এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করা হয়, যার ফলে দখলদাররা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে, রাংটিয়া রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ অফিসার মো. আব্দুল করিম প্রতিনিধিকে জানান যে, তিনি গতকাল (৩ জুন বুধবার) বন বিভাগের জমিতে পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, অবৈধভাবে ঘর নির্মাণকারীরা আগামীকালের মধ্যে স্থাপনা ভেঙে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় বন বিভাগ তাদের সময় দিয়েছে।
তবে অভিজ্ঞ মহল দ্রুত এই বিষয়ে তদন্ত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি বনভূমি অবৈধভাবে দখল ও স্থাপনা নির্মাণের ফলে কেবল সরকারি সম্পত্তিই বেদখল হচ্ছে না, বনাঞ্চলের পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

