খুলনা প্রতিনিধি ঃ- খুলনার দাকোপে আলোচিত মৎস্য ঘেরে হামলার ঘটনায় মামলার আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসনের নিকট স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে। ০২ জুন মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগি দাকোপবাসীর ব্যানারে প্রায় হাজারো নারী পুরুষের অংশ গ্রহনে কর্মসূচী পালিত হয়। উপজেলার খোনা গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা মৎস্য ঘেরে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার আসামী গ্রেফতার অভিযানে গেলে র্যাবের উপর হামলা করে আসামী ছিনতাই করা হয়। যে ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে সরকারী কাজে বাঁধা আসামী ছিনতাই ও গাড়ী ভাংচুরের অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করে। ওই সকল মামলার আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে এবং ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহমেদ ও ব্যবাসায়ী রাশেদ কামালের নামে অপপ্রচার এবং কটুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। চালনা বৌমার গাছতলা হতে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে এসে ডাক বাংলার মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তৃতা করেন পানখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহমেদ, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য শেখ শাকিল আহমেদ দিলু এবং পানখালী ইউপি সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শেখ মোশতাক আহমেদ। সমাবেশ শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর এলাকাবাসীর গনস্বাক্ষরকৃত স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। স্বারকলিপিতে দাবি করা হয় খোনা গ্রামের ৩৩ বিঘার ওই ঘেরটি দীর্ঘদিন বৈধভাবে আকরাম ফকির গংরা ভোগদখল করে আসছে। গত সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ বাচ্চু ফকির, মুকুন্দ মন্ডল, রসুল গাজী, আলামিন শেখ, আব্দুল্লাহ শেখের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৬ মে থেকে তারা ধারাবাহিক ৫ বার ঘেরে হামলা ভাংচুর এবং ২ লক্ষাধীক টাকার মাছ লুট করে। যে ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করলেও স্থানীয় প্রশাসন আসামীদের গ্রেফতার করছে না। যে কারনে বেপরোয়া হয়ে ওঠা সন্ত্রাসীরা র্যাবের উপর হামলা চালিয়ে আসামী ছিনতাই করার দুঃসাহস দেখায়। তারা অবিলম্বে সকল আসামীদের গ্রেফতার করে ঘের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানান। একই দাবিতে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য, খুলনা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্নস্থরে স্বারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

