এম রাসেল সরকার-অনুসন্ধানী প্রতিবেদক;
ঢাকা-৫ (ডেমরা-যাত্রাবাড়ী) আসনে নির্বাচনী ফলাফল এবং দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে “বিশ্বাসঘাতকতা” ও “গোপন আঁতাতের” অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব নবীউল্লাহ নবী। আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) তার ভেরিফাইড ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
নবীউল্লাহ নবী তার পোস্টে অভিযোগ করেন যে, দলের ভেতরে একটি চক্র জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়ে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলের স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ”এরা জামাতের সাথে হাত মিলিয়ে ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচন করেছে। এদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা সত্ত্বেও কোনো ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি দলীয় কোনো ফোরামে আলোচনা না করে উল্টো তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। এই হলো আমাদের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বর্তমান অবস্থা।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে নবীউল্লাহ নবী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে ৫ জন নেতার নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ‘সংগঠন বিরোধী’ কর্মকাণ্ড ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সাথে গোপন আঁতাতের অভিযোগ আনেন।
অভিযুক্ত নেতারা হলেন, মিজান ভাণ্ডারী (নেতা, ৪৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি), আনোয়ার হোসেন (সদস্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি), হানিফ (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ডেমরা থানা যুবদল), জয়নাল আবেদীন রতন (সাবেক সভাপতি, ডেমরা থানা বিএনপি), রাইসুল হাসান হবি (সদস্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি)।
লিখিত চিঠিতে নবীউল্লাহ নবী উল্লেখ করেছিলেন যে, ওই নেতারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। বরং তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সাথে যোগসাজশ করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। চিঠির অনুলিপি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী এবং দলীয় চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছিল।
নবীউল্লাহ নবীর ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের দাবি, পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দেওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি হয়েছে। আজ ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই প্রকাশ ঘটিয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
এই বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনের পর এমন প্রকাশ্য কোন্দল রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

