হবিগঞ্জের হাফেজ নুরুজ্জামানের বাতাসচালিত মোটরসাইকেল: ২০১৪ সালের সেই স্বপ্ন ও দুর্ঘটনা
হবিগঞ্জ: ২০১৩-২০১৪ সালে হবিগঞ্জের ‘বাতাসে চলা মোটরসাইকেল’ সারা দেশে হট টপিক হয়ে উঠেছিল। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ মোঃ নুরুজ্জামান (বয়স ৩০) এই পরিবেশবান্ধব যানটি উদ্ভাবন করেন। চট্টগ্রামের শ্যামলী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র নুরুজ্জামান দুই বছরের গবেষণা ও প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করে এটি তৈরি করেন।
আবিষ্কারের বৈশিষ্ট্য
- প্রযুক্তি: তেল, গ্যাস বা ব্যাটারি ছাড়াই শুধু সিলিন্ডারে ভরা সংকুচিত বাতাস (compressed air) দিয়ে চলত। একবার বাতাস ভরলে প্রায় ৪০ কিলোমিটার যেতে পারত এবং সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার।
- ডিজাইন: কাঠ, লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম শিট দিয়ে তৈরি। দেখতে পালসার মোটরসাইকেলের মতো।
- বিশেষত্ব: হাইড্রোলিক গিয়ারবক্স প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল বলে জানা যায়। প্রতি কিলোমিটারে খরচ ছিল মাত্র ৯১ পয়সা। পরবর্তীতে উৎপাদন খরচ কমিয়ে ১ লাখ টাকায় নামিয়ে আনার দাবি করা হয়েছিল।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ হবিগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে মোটরসাইকেলটি প্রদর্শন ও চালানো হয়। স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয় এই আবিষ্কার।
অকাল মৃত্যু
২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার সোহাগপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রাইভেটকার ও ট্রাকের সংঘর্ষে নুরুজ্জামানসহ চারজন নিহত হন। এই দুর্ঘটনার পর তার আবিষ্কৃত মোটরসাইকেলটির কোনো খোঁজ মেলেনি। কেউ কেউ পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুললেও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবেই রেকর্ড হয়।
নুরুজ্জামানের মৃত্যুর পর এই প্রকল্প আর এগোয়নি। তার স্বপ্নের মোটরসাইকেলটি আজও বাংলাদেশেরবাংলাদেশের উদ্ভাবনী ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

