কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। রোববার উপজেলা সদরের দক্ষিণ বাজার এলাকার রোজ গার্ডেন মডেল স্কুলসংলগ্ন সড়কে দেড় বছর বয়সী রোজা ও তার বড় বোন পাঁচ বছর বয়সী ইসরাতকে একা ফেলে রেখে গেছেন তাদের মা। স্থানীয় বাসিন্দারা দুপুরে শিশু দুটিকে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখে এগিয়ে আসেন। বড় বোন ইসরাত তখন জানায়, মা তাদের চিপস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এখানে নিয়ে আসেন এবং পরে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। শিশুদের সহায়তায় স্থানীয়রা তাদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে বিমানবন্দর হামলায় হতাহত ২৬ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ
আরও পড়ুন: এক সপ্তাহে সৌদি আরবের ৬ বিমানবন্দরে হুথিদের ৭ হামলা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি দেখে শিশু দুটির এক চাচি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ওই নারী মোবাইল ফোনে শিশুদের মা জেসমিনের সঙ্গে কথা বলেন। কথোপকথন চলাকালে জেসমিন স্পষ্ট জানান যে, তিনি সচেতনভাবেই শিশুদের ফেলে এসেছেন এবং তাদের আর নিজের কাছে ফিরিয়ে নেবেন না। এদিকে, পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটির বাবা মো. নাছির কুমিল্লা নগরীতে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। চার মাস আগে নাছির ও জেসমিনের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এবং মা জেসমিন এরপর অন্যত্র বিয়ে করেছেন। বর্তমানে শিশুদের বাবার সঙ্গেও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তারা উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের মো. নাছির ও জেসমিন দম্পতির মেয়ে। তারা আগে কুমিল্লা শহরেই বসবাস করতেন।
আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ঘটনায়, বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড়
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান ভূঁইয়া রিপন জানান, শিশু দুটির মা-বাবার বিচ্ছেদ হওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মা শিশু দুটিকে রেখে কুমিল্লায় চলে গেছেন। তবে আপাতত শিশু দুটি তাদের এক স্বজনের হেফাজতে নিরাপদে আছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় এক চিকিৎসক তাকে এ বিষয়ে অবগত করেছিলেন। পরবর্তীতে শিশু দুটি তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে পরিবারের লোকজন ওই চিকিৎসকের দোকানে চলে আসায় তাদের কাছেই দুই শিশুকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

