যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান পরোক্ষ সংলাপ এবং তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কাতার। দেশটিতে পাকিস্তানের সহযোগিতায় দোহা দুই পরাশক্তির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ তৈরি করা। মঙ্গলবারের এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইব্রাহিম আল-হাশেমি এ তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই মধ্যস্থতার প্রক্রিয়াটি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুথি হামলা: নারীসহ নিহত ৩
এই কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি বর্তমানে কাতার সফরে রয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক পরিস্থিতির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা বিষয়গুলো নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সংঘাতের সময় ভূপাতিত হওয়া ইরানি বিমান ও পাইলটদের উদ্ধারের বিষয়ে তেহরান দোহায় একটি কারিগরি প্রতিনিধি দল পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: প্রয়াত প্রখ্যাত বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর
আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখপাত্র ইব্রাহিম আল-হাশেমি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সমন্বয়ে গঠিত ‘মাক্কাহ অ্যালায়েন্স ফর ডিফেন্স’ বা মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, এই জোট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
একই সংবাদ সম্মেলনে ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে কাতার। সৌদি আরবের পবিত্র স্থান এবং দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর এ ধরনের আক্রমণকে তারা অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করেছে। রিয়াদের ভূখণ্ড ও তাদের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকার যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, তার প্রতি কাতার পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

