আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তি এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ মহড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ঢাকা বা নয়াদিল্লি—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের ভারত সফর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কী বলা হয়েছিল
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (২২ আগস্ট) ফোরকোর্টে নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না।
এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ও মহড়ার কথা উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পরপরই বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে সেটি প্রত্যাহার করে নেয় ভারতের রাষ্ট্রপতি কার্যালয়। পরে নতুন এক বার্তায় জানানো হয়, ২১ আগস্ট প্রকাশিত ‘নো চেঞ্জ অব গার্ড সেরিমনি দিস স্যাটারডে’ শীর্ষক প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়
রাষ্ট্রপতি ভবনের বিজ্ঞপ্তিতে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ থাকলেও তারেক রহমানের ভারত সফরের নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। একইভাবে সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে সফরের সময়সূচি ও কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখনো চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপতি ভবনের এই বিজ্ঞপ্তি
ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে বিদেশি রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। এর অংশ হিসেবে ফোরকোর্টে গার্ড অব অনার, দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং আনুষ্ঠানিক পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এ ধরনের অনুষ্ঠানের আগে পূর্ণাঙ্গ মহড়াও হয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মহড়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকায় বিষয়টি তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাব্য প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হয়।
বিজ্ঞপ্তি কেন প্রত্যাহার করা হলো
ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। তবে সফরটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হওয়ায় আগাম তথ্য প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিটি প্রথমে ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং পরে প্রত্যাহার করা হয়।
ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে সফরটি কবে হবে এবং সেখানে কী ধরনের কর্মসূচি থাকবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে সফরের সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও সফরের তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে রাষ্ট্রপতি ভবনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও দ্রুত প্রত্যাহারের ঘটনায় সম্ভাব্য সফর নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে গুরুত্ব পেতে পারে সফর
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের ভারত সফর হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত কর্মসূচি বা আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি প্রকাশ করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তা প্রত্যাহারের ঘটনা তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে সফর চূড়ান্ত হয়েছে—এমন কোনো সরকারি ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।


