ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের তীব্র হামলার মুখে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ৪১ বছর বয়সী এই যুবরাজকে এখন কঠোর নিরাপত্তা ও বাংকার সুবিধাসম্পন্ন একাধিক সুরক্ষিত প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে। মঙ্গলবার জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার সুরক্ষায় ইতোমধ্যে বিশেষ নিরাপত্তা টিম মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
গত শনিবার রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং অন্তত ৩০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টসহ বেশ কয়েকজন অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই নারী মারা যান। বিমানবন্দরটিতে গত পাঁচ দিনে চারবার হামলা চালানো হয়েছে এবং সপ্তাহান্তের হামলার পর থেকে তা বন্ধ রয়েছে।
আরও পড়ুন: চকবাজারে মনজুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ড
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান ‘সমান কঠোর’ জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের পাল্টা হামলায় সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। হামলার বিষয়ে অবহিত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংঘাতগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটিই ছিল এককভাবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের সবচেয়ে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত মিত্রদের অন্যতম।
২০২২ সালে সম্পাদিত নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি মূলত ইরান ও ইসরাইলের চলমান উত্তেজনার জেরে গত জুলাইয়ে ভেঙে পড়ে। সানা বিমানবন্দরে ইরান থেকে আসা একটি বিমানে সৌদি বাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হুতিরা এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত করেছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি সামরিক হস্তক্ষেপের পর থেকেই রিয়াদের সঙ্গে হুতিদের এই সংঘাত চলছে। মক্কা চুক্তির আওতাভুক্ত সৌদি আরবের মিত্ররাও রিয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এমন অভিযোগ তুলে হুতিরা নতুন করে হামলা শুরু করে।
এদিকে, আরব উপদ্বীপের বর্তমান অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি দাবি করেছেন, এই সংঘাত কেবল ইসরাইলিদের লাভবান করছে। রোববার সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টেলিফোনে সংঘাত নিরসন নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামরিক সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সৌদি-হুতি সংলাপে তেহরানের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তার ভাষায়, এই সংঘাত শুধু ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীকেই লাভবান করবে।

