আজকের সর্বশেষ সবখবর

দাকোপের ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ ত্রাণ চায় না চায় শুধু টেকসই বেড়িবাঁধ

DSF NEWS
DSF NEWS
October 20, 2026 10:16 pm
Link Copied!

মোঃ শামীম হোসেন – খুলনাঃ খুলনার দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে বাঁধে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বারবার সংস্কার করা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে ঢাকী নদীর ভাঙনে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একই নদীর ভাঙনে পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধের একাধিক অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মোল্লাবাড়ির সামনের অংশে বাঁধ ধসে পড়ার পাশাপাশি সড়কের বড় একটি অংশও নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের বড় অংশ ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে। এতে ওই এলাকার মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাঁধের আরও অংশ ধসে পড়লে আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এ ছাড়া জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা ও তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও পুকুরের মাছের ক্ষতি হয়। গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধান ও পুকুরের মাছ ভেসে যায়। তাঁদের দাবি, অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের সংস্কারকাজের কারণে বারবার একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা এ ভাঙন দেখে আসছি। প্রতি বছরই দু-একবার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকে। ভাঙতে ভাঙতে আমাদের ও আশপাশের বহু মানুষের বাড়িঘর এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।”তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতিবছর বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা নিয়ে তাঁদের দিন কাটাতে হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল ইসলাম বাবু বলেন, গত ২ অক্টোবর খোনা মোল্লাবাড়ির সামনে বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দেয়। এরই মধ্যে সড়কের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এ বিষয়ে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খুলনা পাউবোর বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। শিগগিরই সেখানে কাজ শুরু করা হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু জরুরি সংস্কার করে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ঢাকী নদীর ভাঙন রোধে টেকসই ও পরিকল্পিত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের অংশগুলো দ্রুত মেরামত করে বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যা ও দোয়ারাবাজারে এম এ মোতালিবের উপর হামলার

আরও পড়ুন: পাইকগাছা বিভিন্ন পূজা মন্দির পরিদর্শন ও উপস্থিত দর্শনার্থীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।