রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সোমবার রাত ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এর আগে রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ওই হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সরাসরি জড়িত ছিলেন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তিন নেতাকে বহিষ্কার করেছে এবং আরও ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
প্রশাসনের করা মামলায় এজাহারে নির্দিষ্ট কোনো নাম না থাকায় এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করার প্রতিবাদে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এক পর্যায়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামসহ কর্মকর্তাদের প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি নিয়ে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে আমাদের বেশ কিছু দাবি মেনে নিতে প্রশাসন সময় চেয়েছে।
আলোচনা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার প্রত্যাশা করছে প্রশাসন। প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং পরবর্তীতে সিন্ডিকেট সভা ডেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন, তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট দাখিল করা হবে এবং অভিযুক্তদের মধ্যে যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব নেই, তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ও সনদ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপাচার্য বলেন, ‘আমরা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট পাবো এটাই আশা। এরপর সিন্ডিকেটে প্রয়োজনীয় কমিটি গঠন এবং ১৫ দিনের মধ্যে জরুরি সভা আহ্বান করে তাঁদের স্থায়ী বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেটার ওপর আস্থা রাখুন।’। প্রশাসন ঠিকভাবে কাজ করলে আমরা সহযোগিতা করব।
উপাচার্য আরও জানান, ঘটনার পেছনে ইন্ধনদাতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রশাসন ভবনে বারবার তালা দেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুধু যে চিহ্নিত তা নয়, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে যারা ঘটনাকে এতদূর এনেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহ পরান জানান, প্রশাসনের দেওয়া রোডম্যাপ অনুযায়ী তারা পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করবেন। যদি কাজে কোনো গাফিলতি দেখা দেয় তবে আবারও কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এদিকে, যতক্ষণ না প্রশাসন হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, ততক্ষণ ক্যাম্পাসের তিনটি সাংবাদিক সংগঠন প্রশাসনের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির জানান, তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের সংবাদ কভার করবেন না তারা।
তিন দশকের শিক্ষকতা জীবনে সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা তিনি আগে দেখেননি বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন: দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আব্দুল বারী
আরও পড়ুন: গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নিবার্চনে মেয়র পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে হালিম উদ্দিন আহমদ হেলিম

