DSF NEWS
ঢাকা Tuesday, 6 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আনদোলন
  6. আর্ন্তজাতিক
  7. উদ্ধার
  8. উদ্বোধন
  9. ক‌মি‌টি
  10. কৃষি
  11. খেলা
  12. গণমাধ্যম
  13. জাতীয়
  14. টেক রিলেট
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির ঐতিহাসিক জয় ও নেপথ্যের ঘটনাপ্রবাহ

DSF NEWS
DSF NEWS
October 6, 2026 1:15 pm
Link Copied!

১৯৯৬ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবার হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরেছিল আওয়ামী লীগ। তবে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে সরকারের শেষদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ চারদলীয় জোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২১৬টিতে জয়লাভ করে অভাবনীয় সাফল্য পায়। এ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ৪০ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৯৩টি আসনে বিজয়ী হয়। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৪০ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পেয়েও মাত্র ৬২টি আসন পায়, যা তাদের আগের মেয়াদের তুলনায় অর্ধেকেরও কম ছিল। ওই নির্বাচনে জোটের সঙ্গী জামায়াতে ইসলামী ১৭টি, জাতীয় পার্টি (নাজিউর রহমান পন্থী) ৪টি এবং ইসলামী ঐক্যজোট ২টি আসন পেয়েছিল। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি এককভাবে লড়াই করে ১৪টি আসন জিতেছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবার হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় ফিরেছিল আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ৪০ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৯৩ আসন পায় বিএনপি। আর আগের নির্বাচনে ১১৬ আসন পাওয়া বিএনপির আসন বেড়েছিল ৭৭টি। অবশ্য শতাংশের হিসাবে দুই দলেরই ভোট বেড়েছিল। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩৩ দশমিক ৪০ শতাংশ ও আওয়ামী লীগ ৩৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে।

নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি ছিল চরম উত্তেজনাকর। নির্বাচনের দুই দিন পরই ‘আওয়ামী লীগ হারল কেন?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে দলীয় বিপর্যয় এবং কৌশলগত ভুলত্রুটির কথা উঠে আসে। নির্বাচনের পরপরই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন। শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন যে, এবার নির্বাচনের ফলাফল সূক্ষ্ম নয়, বরং অত্যন্ত ‘স্থূল কারচুপি’র মাধ্যমে পাল্টে দেওয়া হয়েছে। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। ৩ অক্টোবর দলীয় সভার পর তিনি শপথ না নেওয়ার ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান। এর আগে নব্বইয়ের দশকে ব্যাপক আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দেশে।

অন্যদিকে, বিজয়ী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে দেশ থেকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনে সব দলের সহযোগিতা কামনা করেন। ১০ অক্টোবর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার সঙ্গে ৬০ সদস্যের মন্ত্রিসভা দায়িত্ব গ্রহণ করে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনসহ এটি ছিল খালেদা জিয়ার তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনা। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির এই বিপুল জয়ের পেছনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের ক্ষোভের পাশাপাশি বিএনপির ‘সফল’ জোট গঠন ও ভোট বিভাজন কমানোর কৌশল কাজ করেছিল বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক বিশ্লেষণেও একই ধরনের মত প্রকাশ করা হয়েছিল।

ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটিও ছিল নাটকীয়। ২০০১ সালের ১৫ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা হস্তান্তর করেন প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে। দায়িত্ব গ্রহণের রাতেই লতিফুর রহমান ২৪টি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বদলি করেন, যা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সরকার গঠনের ক্ষেত্রেও বাধার সম্মুখীন হয় বিএনপি। তখন জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হামিদ। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের জটিলতা দেখিয়ে তিনি শুরুতেই শপথ পাঠ করাতে গড়িমসি করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে ৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াসহ ১৯৭ জন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করেন। এর বাইরে ১৯৯১ সালে বিশেষ পরিস্থিতিতে গঠিত প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীন পঞ্চম সংসদ নির্বাচন হয়।

বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুই দলই নির্বাচনের পর একে অপরের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ এনেছিল। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বুথ জ্যামিংসহ বিভিন্ন কৌশলী কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বারবার আওয়ামী লীগকে সংসদে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেছিলেন, ‘সংসদে আসুন, প্রয়োজনে যেকোনো জায়গায় আলোচনায় বসতে অসুবিধা নেই।’ তবে শেখ হাসিনার অনড় অবস্থানের কারণে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়া নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়। অবশেষে ২২ ও ২৩ অক্টোবর দলীয় সভার পর ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন এবং শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি দলের প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ চাপ ও সমালোচনার মুখে ২০০২ সালের ২১ জুন তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেলেও ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তাদের শাসনামলে সুশাসন নিশ্চিত করার অভাব নিয়ে সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে সংবিধান সংশোধন করে বিচারপতিদের বয়স বাড়ানো, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ম্যানিপুলেশন, বিরোধী দলের সঙ্গে সহিংস রাজনৈতিক বিরোধ এবং শেষ পর্যন্ত ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হওয়া ছিল ওই সময়ের প্রধান রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য। এছাড়া নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।