মোঃ শামীম হোসেন – খুলনা: খুলনার দাকোপে তীব্র তাপদাহের মধ্যেই চরম আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা এই অসহনীয় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের এই লুকোচুরি—সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) তাদের তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিন কিংবা রাত—কোনো নিয়ম ছাড়াই যখন-তখন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে এলাকা।
বিশেষ করে রাতে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ঘুমাতে পারছেন না অথচ মাস শেষে বিলের বেলায় কুম্তি নেই। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতির এই সময়ে রাতে মোমবাতি বা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে তাদের।
তীব্র গরমে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে পরীক্ষার্থীরা। বাজুয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা কাঁচামাল ও মাছ-মাংস নষ্ট হচ্ছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য। অপরদিকে তীব্র গরমে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী এবং শিশুরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ দাকোপবাসী ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন।
একজন ভুক্তভোগী ফেসবুকে লিখেছেন, দাকোপের পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা কি সাধারণ মানুষের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন? ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে এটাকে লোডশেডিং বলে না, একে বলে ‘লোডশেডিংয়ের মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ দেওয়া’। আমরা কি আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছি?” আরেকজন নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “বিল দেওয়ার সময় একদিন দেরি হলে জরিমানা নেওয়া হয়, কিন্তু ঠিকমতো বিদ্যুৎ না দিলে তার জরিমানা কে দেবে? এই তীব্র গরমে রাতে ঘুমাতে না পেরে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের এসি রুমে বসে সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝার কথা নয়।” অনেকেই আবার বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। অপরদিকে চলছে বিশ্বকাপ খেলা লোডশেডিং এর কারণে এলাকাবাসী খেলাও ঠিক মত দেখতে পারছে না। বিশ্বকাপ প্রেমিক দর্শকদের দুঃখের শেষ নেই যেকোনো সময় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাউ বা ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে ধারণা করছে এলাকার সচেতন মহল নাগরিকরা। এ বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের (পল্লী বিদ্যুৎ) দাকোপ জোনাল অফিসের ডিজিএম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটা হচ্ছে।” তবে কবে নাগাদ এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। অবিলম্বে এই অন্যায্য লোডশেডিং বন্ধ করে এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন দাকোপবাসী, যাতে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা এই চরম দুর্ভোগ থেকে রেহাই পায়।

