DSF NEWS
ঢাকাশুক্রবার , ১২ জুন ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আনদোলন
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. উদ্ধার
  6. উদ্বোধন
  7. ক‌মি‌টি
  8. কৃষি
  9. খেলা ধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. জাতীয়
  12. টেক রিলেট
  13. দুর্ঘটনার খবর
  14. ধর্ম ইসলামিক
  15. নারী ও শিশু
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজউকের নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ-প্রশাসন নিরব, দেখেও না দেখার ভাঁন করছে-প্রয়োজন দুদকের হস্তক্ষেপ

DSF NEWS
DSF NEWS
জুন ১২, ২০২৬ ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

এম রাসেল সরকার: রাজধানীর পল্লবী ও মিরপুর এলাকায় রাজউকের নকশা অমান্য করে এবং বাধ্যতামূলক ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ (বসবাস উপযোগী সনদ) ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ ও সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ রয়েছে ‘রাইজিং ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড’ নামক একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর চার মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জোনাল অফিস ৩/১-এর পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা ও ‘দেখেও না দেখার ভান’ করার প্রবণতা রাজধানীর আবাসন খাতকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরাসরি হস্তক্ষেপ এখন জরুরী হয়ে পড়েছে।

​অনুসন্ধান ও সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, পল্লবী আবাসিক এলাকার সেকশন-১২, ব্লক-বি, রোড-২-এর ৩৪ নম্বর প্লট এবং ঝিলপাড় মসজিদ সংলগ্ন ৩৫ ও ৩৬ নম্বর প্লটে প্রায় সাত কাঠা জমির ওপর অনুমোদিত নকশার তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। একইভাবে মিরপুর আবাসিক এলাকার মেইন রোডের জি-৯ (প্লট নং এ অথবা ই)-তেও নকশা ব্যত্যয় করে বহুতল ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নকশা লঙ্ঘন করে নির্মিত একটি ভবনের কাজ তড়িঘড়ি শেষ করে সেখানে ইতোমধ্যে ক্রেতাদের আবাসন নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মানুষ বসবাস শুরু করেছেন। অথচ রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী ভবন সম্পূর্ণ হওয়ার পর পরিদর্শনের মাধ্যমে যে ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ দেওয়া বাধ্যতামূলক, তা এই ভবনের ক্ষেত্রে নেওয়া হয়নি। এমনকি অন্যান্য ভবনে এখনো দেদারসে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজ চলছে।

​দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু নিয়মভঙ্গ নয়, বরং গুরুতর অপরাধ, অনুমোদিত নকশা ছাড়া যেকোনো নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। নকশা ব্যত্যয় ঘটলে রাজউক তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ, জরিমানা এবং অবৈধ অংশ বা সম্পূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার (উচ্ছেদ) আইনি ক্ষমতা রাখে। বিধিমালা অনুযায়ী, অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ছাড়া ভবনে বসবাস করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ এই সনদ ছাড়া ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ধারা ২৬ অনুযায়ী রাজউক যেকোনো অবৈধ নির্মাণ বন্ধ ও উচ্ছেদ করতে বাধ্য। ধারা ৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো রাজউক কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বা অর্পিত দায়িত্বে অবহেলা করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। নকশা ব্যত্যয় ঘটিয়ে ফ্ল্যাট বা ভবন বিক্রি করা এবং ক্রেতাকে অন্ধকারে রেখে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া জনস্বার্থে বিশ্বাসভঙ্গ (ধারা ৪০৯) এবং সরাসরি প্রতারণার (ধারা ৪২০) শামিল। সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা, রাজউকের আইনি নিষ্ক্রিয়তা এবং নকশা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার পেছনে আর্থিক লেনদেন বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ বা সম্ভাবনা থাকলে, তা দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, নকশা ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ করলে ভবনের মূল কাঠামোগত শক্তি ও ভারসাম্য (Structural Integrity) মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। ঢাকা শহরের মতো অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে এই ধরনের ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের মানবসৃষ্ট বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ডেভেলপারদের অতি-মুনাফার লোভ এবং ক্রেতাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ নিজেদের আজীবনের সঞ্চয় দিয়ে ফ্ল্যাট কিনলেও, তারা অজান্তেই এক একটি মৃত্যুফাঁদে বসবাস করছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজউক জোন ৩/১-এর অথরাইজড অফিসার এফ আর আশিক আহমেদের দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি জরুরি দাপ্তরিক কাজে প্রধান কার্যালয়ে আছেন। তবে কেন মাসের পর মাস ধরে চলা এই প্রকাশ্য অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো উচ্ছেদ অভিযান বা জরিমানা করা হলো না, তার কোনো সন্তোষজনক বা লিখিত ব্যাখ্যা জোনাল অফিস থেকে পাওয়া যায়নি। ​আইনের চোখে সবাই সমান, রাজউকের কতিপয় কর্মকর্তার এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণ করে যে, যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকা সাধারণ জনগণের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যৎ বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করতে রাইজিং ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের এই অনিয়মের পেছনে রাজউকের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো যোগসাজশ বা দুর্নীতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত তদন্ত শুরু করা উচিত।

পল্লবী ও মিরপুরের অভিযুক্ত প্রকল্পগুলোর কাজ অবিলম্বে বন্ধ করে নকশা বহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলে সনদবিহীন ভবনে বসবাসের আইনি ঝুঁকি ও ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা (Retrofitting/Structural Assessment) করা উচিৎ। জোন ৩/১-এর যেসব কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার কারণে একটি বেআইনি ভবন সম্পন্ন হয়ে মানুষ বসবাস করার সুযোগ পেল, তাদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় ও আইনি শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

​রাজধানীকে একটি নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে টিকিয়ে রাখতে রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের এই মুহূর্তে কঠোর ও আপসহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। অন্যথায়, এই আইনি শিথিলতা ভবিষ্যতে আরও বড় ট্র্যাজেডির পথ প্রশস্ত করবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।