শফিকুল ইসলাম সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ১৯টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা দ্রুত বিচার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন ১০ আসামির মধ্যে ৯ জন। আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার আরও এক আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সুনামগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আদালতে এ আদেশ দেওয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, দ্রুত বিচার ১৪/২০২৫ (তাহিরপুর) মামলায় উপজেলার হলহলিয়া গ্রামের আমির আলীর ছেলে সুলতান মিয়া বাদী হয়ে ৪২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাহিরপুর থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে থানার অফিসার ইনচার্জ আদালতে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন— হলহলিয়া গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে নুর ইসলাম, আনোয়ার আলী, কুদরত আলী, আছমত আলী, ছমেদ আলীর ছেলে রুমালী, সাদেক মিয়ার ছেলে শামসুল হক ও সাজিল হক, মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান ও আব্দুল হামিদ। এছাড়া মৃত কেরামত আলীর ছেলে তমিজ উদ্দিন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর শুনানিতে অংশ নেন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা। আদালত পরে সকল আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা জামিন আবেদন করলে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম সেফু ও মো. শাজাহান মিয়া জামিনের বিরোধিতা করেন।
শুনানি শেষে আদালত ৯ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামি তমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান রয়েছে।

