DSF NEWS
ঢাকারবিবার , ১২ এপ্রিল ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আনদোলন
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. উদ্ধার
  6. উদ্বোধন
  7. কৃষি
  8. খেলা ধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. জাতীয়
  11. টেক রিলেট
  12. দুর্ঘটনার খবর
  13. ধর্ম ইসলামিক
  14. নারী ও শিশু
  15. নির্বাচন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানের স্যাংশন এড়ানোর কৌশল Sanctions Evasion Strategies

DSF NEWS
DSF NEWS
এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক স্যাংশনের মুখে পড়েছে। তেল রপ্তানি, অস্ত্র সংগ্রহ, অর্থ স্থানান্তর এবং প্রযুক্তি আমদানিতে এই স্যাংশন বাধা সৃষ্টি করে। তবে ইরান বছরের পর বছর ধরে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বহুমুখী কৌশল ব্যবহার করে এই স্যাংশন এড়িয়ে চলছে। ২০২৬ সালের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও (ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন সংঘাত) এই কৌশলগুলো আরও সক্রিয়।

নিচে ইরানের প্রধান স্যাংশন এড়ানোর কৌশলগুলো বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:

১. শ্যাডো ফ্লিট (Shadow Fleet) ব্যবহার

  • ইরানের তেল রপ্তানির সবচেয়ে বড় কৌশল।
  • পুরনো, নিম্নমানের ট্যাঙ্কার ব্যবহার করে যেগুলোর মালিকানা, নিবন্ধন ও বীমা লুকানো থাকে।
  • জাহাজের নাম, পতাকা, এমএমএসআই (AIS) সিগন্যাল বারবার পরিবর্তন করা হয়।
  • শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার: সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করে উৎস লুকানো হয়।
  • বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে তেল যায়।

২. চীন-কেন্দ্রিক রপ্তানি ও বার্টার

  • ইরানের তেলের ৮০-৯৫% চীন কিনে নেয়।
  • চীনের ছোট রিফাইনারি (Teapot Refineries) ইরানি তেল সস্তায় কিনে প্রক্রিয়াজাত করে।
  • তেলের বিনিময়ে খাদ্য, ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানি (বার্টার)।
  • লেনদেন ইউয়ান, রুবল বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে করা হয় — ডলার এড়ানোর জন্য।

৩. ক্রিপ্টোকারেন্সি ও শ্যাডো ব্যাংকিং

  • ২০২৫-২৬ সালে ইরান ক্রিপ্টো ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে।
  • IRGC-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট দিয়ে কয়েক বিলিয়ন ডলার স্থানান্তর।
  • ক্রিপ্টো দিয়ে অস্ত্র কেনা, প্রক্সি গ্রুপ (হিজবুল্লাহ, হুথি) অর্থায়ন এবং তেল বিক্রির অর্থ লুকানো হয়।
  • স্যাংশন এড়ানোর জন্য ডিজিটাল ওয়ালেট ও মিক্সার সার্ভিস ব্যবহার।

৪. ফ্রন্ট কোম্পানি ও ডকুমেন্ট ম্যানিপুলেশন

  • একাধিক স্তরের শেল কোম্পানি (front companies) তৈরি করে মালিকানা লুকানো।
  • জাহাজের মালিকানা, বিল অব লেডিং, ইনভয়েস ও ডকুমেন্ট জালিয়াতি।
  • তৃতীয় দেশ (তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, জর্জিয়া) কে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার।

৫. হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার

  • যুদ্ধের সময় প্রণালী বন্ধ করে চাপ সৃষ্টি।
  • শান্তির সময় খুলে দিয়ে আলোচনায় সুবিধা নেওয়া।
  • ইরানি নৌবাহিনী ও আইআরজিসি নৌশক্তি দিয়ে প্রণালী নিয়ন্ত্রণ।

বর্তমান (২০২৬) প্রেক্ষাপট

  • যুদ্ধ সত্ত্বেও ইরান তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে (প্রধানত চীনের দিকে)।
  • যুক্তরাষ্ট্র শ্যাডো ফ্লিটের ওপর নতুন স্যাংশন দিচ্ছে, কিন্তু ইরান নতুন জাহাজ ও রুট ব্যবহার করে এড়িয়ে চলছে।
  • ক্রিপ্টো ফ্লো বেড়েছে — ২০২৫ সালে IRGC-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট দিয়ে কয়েক বিলিয়ন ডলার স্থানান্তর হয়েছে।

সারসংক্ষেপ
ইরানের স্যাংশন এড়ানোর কৌশল মূলত চীন-নির্ভরশ্যাডো ফ্লিটক্রিপ্টো ও ডকুমেন্ট জালিয়াতি-এর ওপর ভিত্তি করে। এগুলো দিয়ে ইরান অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তেল বিক্রি করে রাজস্ব সংগ্রহ করছে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই কৌশলগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত নতুন স্যাংশন ও নজরদারি বাড়াচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।