DSF NEWS
ঢাকারবিবার , ১২ এপ্রিল ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আনদোলন
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. উদ্ধার
  6. উদ্বোধন
  7. কৃষি
  8. খেলা ধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. জাতীয়
  11. টেক রিলেট
  12. দুর্ঘটনার খবর
  13. ধর্ম ইসলামিক
  14. নারী ও শিশু
  15. নির্বাচন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হরমুজ প্রণালীর ট্যাঙ্কার যুদ্ধ বিস্তারিত ইতিহাস

DSF NEWS
DSF NEWS
এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ট্যাঙ্কার যুদ্ধ (Tanker War) ছিল ইরান-ইরাক যুদ্ধ (১৯৮০-১৯৮৮)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র অংশ। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত এই যুদ্ধে দুই দেশই একে অপরের তেলবাহী জাহাজ (ট্যাঙ্কার) ও বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এটি বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় আক্রমণের ঘটনা হিসেবে পরিচিত।

যুদ্ধের শুরু ও কারণ

  • ১৯৮০: ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়। প্রথম দিকে স্থলযুদ্ধে আটকে পড়ে।
  • ১৯৮১-১৯৮৪: ইরাক প্রথমে ইরানের তেলবাহী জাহাজে আক্রমণ শুরু করে। উদ্দেশ্য ছিল ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করা, কারণ ইরানের তেল রপ্তানি ছিল তার যুদ্ধের প্রধান অর্থের উৎস।
  • ১৯৮৪: ইরাক আক্রমণের মাত্রা বাড়ায় এবং ফ্রান্স থেকে পাওয়া Super-Etendard বিমান ও Exocet মিসাইল ব্যবহার করে। ইরানও প্রতিশোধ নিতে শুরু করে।
  • ফলে যুদ্ধ সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে এবং হরমুজ প্রণালী হয়ে ওঠে যুদ্ধক্ষেত্র।

যুদ্ধের পর্যায়সমূহ

  1. প্রথম পর্যায় (১৯৮১-১৯৮৪): ইরাক প্রধানত ইরানের খার্গ দ্বীপ (Kharg Island) এবং ইরানি তেলবাহী জাহাজে আক্রমণ করে। ইরান তখনও বড় আকারে প্রতিশোধ নেয়নি।
  2. দ্বিতীয় পর্যায় (১৯৮৪-১৯৮৭): ইরানও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ইরাকের মিত্র কুয়েত, সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশের ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে। ইরান মাইন পেতে, স্পিডবোট ও মিসাইল ব্যবহার করে।
  3. তৃতীয় পর্যায় (১৯৮৭-১৯৮৮): যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। অপারেশন আর্নেস্ট উইল (Operation Earnest Will) চালু করে কুয়েতি ট্যাঙ্কারগুলোকে আমেরিকান পতাকা দিয়ে সুরক্ষা দেয়।

গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

  • ১৯৮৭: ইরানি মাইনের আঘাতে USS Bridgeton ক্ষতিগ্রস্ত হয় (প্রথম আমেরিকান কনভয়ে)।
  • ১৯৮৭: ইরাকি বিমান ভুল করে USS Stark ফ্রিগেটে আঘাত করে, ৩৭ জন আমেরিকান নাবিক নিহত হয়।
  • ১৯৮৮: ইরানি মাইনের আঘাতে USS Samuel B. Roberts ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র অপারেশন প্রেয়িং ম্যান্টিস (Operation Praying Mantis) চালিয়ে ইরানের দুটি তেল প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করে।
  • ১৯৮৮: USS Vincennes ভুল করে ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫ (বেসামরিক বিমান) গুলি করে ভূপাতিত করে, ২৯০ জন নিহত হয়। এটি যুদ্ধ শেষের অন্যতম কারণ হয়।
  • মোট আক্রমণ: ইরাক ২৮৩টি, ইরান ১৬৮টি। ৪০০+ নাবিক নিহত, শতাধিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

  • অপারেশন আর্নেস্ট উইল: কুয়েতি ট্যাঙ্কারগুলোকে আমেরিকান পতাকা দিয়ে সুরক্ষা দেওয়া হয়। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় কনভয় অপারেশন ছিল।
  • যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল প্ল্যাটফর্ম ও জাহাজ ধ্বংস করে।

পরিণতি

  • যুদ্ধ ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় শেষ হয়।
  • হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন ব্যাহত হয়, তেলের দাম বেড়ে যায়।
  • এই যুদ্ধ আজকের হরমুজ সংকটের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। বর্তমান ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন যুদ্ধে অনেকে এর পুনরাবৃত্তি দেখছেন।

হরমুজ প্রণালী শুধু তেলের পথ নয় — এটি বিশ্ব অর্থনীতিরাজনৈতিক ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চোকপয়েন্ট। ১৯৮০-এর দশকের ট্যাঙ্কার যুদ্ধ তার প্রমাণ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।