সৈয়দ কাহেরঃ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে
“জমজমাট আয়োজনে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিশ্বময় গ্রেটার সিলেটবাসীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে আয়োজিত ৪র্থ আন্তর্জাতিক উৎসব-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

জমজমাট আয়োজনে গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশেনের ৪র্থ আন্তর্জাতিক উৎসব সিলেটে সফলভাবে সম্পন্ন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি গত রোববার
(১লা ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গালস্থ একটি অভিজাত হোটেলের অডিটোরিয়ামে সম্পন্ন হয়।
গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল-এর পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. তাজ উদ্দিন।
পরে জাতীয় সংগীত, ফিতা ও কেক কেটে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন-সংগঠনের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব।

জমজমাট আয়োজনে গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশেনের ৪র্থ আন্তর্জাতিক উৎসব সিলেটে সফলভাবে সম্পন্ন
আন্তর্জাতিক উৎসবে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর, লেখক ও সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, কেমুসাস মতিন-উদ-দীন আহমদ জাদুঘরের পরিচালক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, একুশে পদকপ্রাপ্ত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন, সহ-সভাপতি আবুল কালাম ছোটন, সহ-সভাপতি ও অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রধান সমন্বয়ক অলি উদ্দিন শামীম, সহ-সভাপতি ফয়জুল হক, চীফ ট্রেজারার ড. রফিকুল হায়দার, বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল, যুক্তরাজ্য বিসিএর প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ওলি খান এমবিই, গ্রামীণ জনকল্যাণ সংসদের সভাপতি জামিল চৌধুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেটের পরিচালক ড. এমদাদ হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা নাইম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে দেশ ও মানুষের কল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য দানবীর ড. রাগীব আলী ও বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের (বিসিএ) সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার এমবিইকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রাপ্ত দানবীর ড. রাগীব আলী ও বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের (বিসিএ)-এর সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার এমবিই এর জীবনের নানা দিক তুলে ধরে প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সংগীত পরিবেশন করেন সিলেটের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী।

জমজমাট আয়োজনে গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশেনের ৪র্থ আন্তর্জাতিক উৎসব সিলেটে সফলভাবে সম্পন্ন
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. তাজ উদ্দিন বলেছেন, সিলেট বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। দেশের সিংহভাগ রেমিট্যান্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা সিলেটিদের কাছ থেকেই আসে। অথচ এই সিলেটই সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত ও অবহেলিত। যোগাযোগব্যবস্থা কিংবা প্রবাসীদের নানা সুযোগ-সুবিধা থেকেও সিলেটবাসী বরাবরই উপেক্ষিত হয়ে আসছে। ভঙ্গুর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, ট্রেনের ডাবল লাইন ও দ্রুতগামী ট্রেনের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় সড়ক ও ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম ভোগান্তিকর হয়ে উঠেছে। এছাড়া বিমানবন্দর ও পাসপোর্ট সেবাসহ সামগ্রিক উন্নয়নের দিকে সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে সিলেট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশন সিলেটবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করতে ভূমিকা রাখছে। তাদের নানাবিধ কার্যক্রম আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্রবাসে সিলেটবাসীর দাবি-দাওয়া আদায়ে এই এসোসিয়েশনের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর বলেন, সিলেট অযুত সম্ভাবনাময় অঞ্চল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ অঞ্চলের মানবসম্পদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। অথচ তাদেরকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। প্রবাসীদের দাবি-দাওয়া কার্যকরের মাধ্যমেই তাদের প্রতি মূল্যায়ন প্রদর্শন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে এসোসিয়েশনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
লেখক ও সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সিলেট সব সময় বঞ্চিত। সিলেটকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বলা হলেও এর কোনো কার্যকারিতাই নেই। শুধু নাম দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে—যা সিলেটের সাথে প্রতারণার শামিল। এ প্রতারণা থেকে বেরিয়ে এসে সরকারকে কার্যক্রম বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে হবে।
কেমুসাস মতিন-উদ-দীন আহমদ জাদুঘরের পরিচালক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার বলেন, গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কার্যক্রম দেখে একজন সিলেটি হিসেবে গর্ববোধ করি। আজকের আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা ভাই-বোনদের আগমনই বলে দেয়, সিলেটকে আমরা কতটা ভালোবাসি। এ ভালোবাসা ধরে রাখতে হবে।
একুশে পদকপ্রাপ্ত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, সিলেট আমাদের প্রাণের অংশ। ঐতিহাসিক ধারায় সিলেটবাসীর রয়েছে অসামান্য অবদান। অথচ এই সিলেটকে বারবার বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। এ বঞ্চনাকে দাবিতে রূপান্তরিত করতে গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ভূমিকা অপরিসীম। আমাকে এই আয়োজনে সম্পৃক্ত করায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
সম্মাননা গ্রহণ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে দেশবরেণ্য সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী দানবীর ড. রাগীব আলী সংগঠনের সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সম্মাননা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম পূর্ববর্তীদের কাজ ও অবদান সম্পর্কে জানবে। নতুনদের ভালো কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রেরণা পাবেন।
সম্মাননাপ্রাপ্ত পাশা খন্দকার এমবিই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশন আমাকে সম্মানিত করায় আমি আনন্দিত, গর্বিত এবং আবেগাপ্লুত। বিশ্বের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সিলেটবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করতে এই এসোসিয়েশন অনেক দূর এগিয়ে যাক, এই কামনা করেন ।পরিশেষে সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব ও সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এদিকে বৃটেন থেকে ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান ও গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশেনের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর এক শুভ অভিনন্দন বার্তায় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে “জমজমাট আয়োজনে গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশেনের ৪র্থ আন্তর্জাতিক উৎসব সিলেটে সফলভাবে সম্পন্ন করায় সংগঠনের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল ও চীফ ট্রেজারার ড. রফিকুল হায়দার,সহ সংগঠন এর দায়িত্বশীল সবাইকে এবং বাংলাদেশ টিমকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪ বছরের মধ্যে বিশ্বে ৩১টি দেশে কমিটি গঠন করেছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, স্পেন ও ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪র্থ আন্তর্জাতিক উৎসব জন্মভূমি সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো। অনুষ্ঠানে জালালাবাদ উৎসব উপলক্ষে প্রকাশিত স্যুভেনির-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

