DSF NEWS
ঢাকাশনিবার , ৩ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আনদোলন
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. উদ্ধার
  6. উদ্বোধন
  7. কৃষি
  8. খেলা ধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. জাতীয়
  11. টেক রিলেট
  12. দুর্ঘটনার খবর
  13. নারী ও শিশু
  14. নির্বাচন
  15. প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এনসিপির বড় ভাঙ্গন: ১৪ কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ

DSF NEWS
DSF NEWS
জানুয়ারি ৩, ২০২৬ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Dsf ডেস্ক রিপোর্টঃ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি ঝড় উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, যা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তরুণ নেতাদের হাতে গড়ে উঠেছিল, সেই দলটি এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দলের অন্তত ১৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। এই ঘটনা শুধু দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদই নয়, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রজন্মের আদর্শিক সংকটকেও তুলে ধরছে।

এনসিপি গঠিত হয়েছিল গণতান্ত্রিক সংস্কার, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনীতির স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে জোটের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলে অসন্তোষ শুরু হয়। অনেকে মনে করেন, এই জোট দলের মূল আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে একের পর এক শীর্ষ নেতা দল ছাড়ছেন।

এনসিপির বড় ভাঙ্গন: কী ঘটছে দলে?

এনসিপির এই সংকট শুরু হয় ডিসেম্বর ২০২৫-এর শেষ দিকে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই দলের ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে স্মারকলিপি দেন। তাঁরা জোটের বিরোধিতা করেন।

কিন্তু জোট চূড়ান্ত হওয়ার পর পদত্যাগের হিড়িক পড়ে যায়। জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন:

  • ডা. তাসনিম জারা (সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব)
  • তাজনূভা জাবীন (যুগ্ম আহ্বায়ক)
  • খান মুহাম্মদ মুরসালীন (যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক)
  • খালেদ সাইফুল্লাহ (যুগ্ম আহ্বায়ক)
  • আজাদ খান ভাসানী (কৃষক উইং প্রধান)
  • মুশফিক উস সালেহীন (মিডিয়া সেল সম্পাদক)

এই পদত্যাগগুলো দলের জন্য বড় ধাক্কা, কারণ এরা অনেকেই জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির নেতা।

এনসিপির বড় ভাঙ্গনের পটভূমি বোঝা

এনসিপি গঠিত হয় ২০২৫ সালে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তরুণরা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে। নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে দলটি ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক এবং সংস্কারমুখী রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দেয়।

কিন্তু আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য একা লড়াই কঠিন মনে করে দলটি জোটের দিকে ঝুঁকে। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হয় প্রায় ৩০টি আসনে। নাহিদ ইসলাম বলেন, এটা শুধু নির্বাচনী জোট, আদর্শিক নয়।

তবে অনেক নেতা মনে করেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের বিরোধিতা এবং তাদের রাজনীতি এনসিপির আদর্শের বিপরীত। ফলে ভাঙ্গন অনিবার্য হয়ে ওঠে।

এনসিপির বড় ভাঙ্গন থেকে কী শিক্ষা নেওয়া যায়

এই সংকট থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে:

  • জোট গঠনের আগে দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদার করা দরকার।
  • আদর্শিক অবস্থানে অটল থাকলে সমর্থকদের বিশ্বাস অটুট থাকে।
  • তরুণ রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাদের মতামতকে সম্মান করতে হবে।
  • নির্বাচনী কৌশল এবং দীর্ঘমেয়াদি আদর্শের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা চ্যালেঞ্জিং।

এনসিপির নেতৃত্ব এখন এই সংকট কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে। কিন্তু পদত্যাগকারীরা অনেকেই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন বা অন্য পথ খুঁজছেন।

এনসিপির বড় ভাঙ্গনে যেসব ভুল এড়ানো উচিত ছিল

এই ভাঙ্গন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কিছু সতর্কতা:

  • জোটের সিদ্ধান্ত একতরফা না নিয়ে সবাইকে নিয়ে আলোচনা করা।
  • দলের মূল সমর্থকদের (যেমন জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধারা) মতামতকে অগ্রাহ্য না করা।
  • আদর্শের সঙ্গে আপস করলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হয়।
  • অভ্যন্তরীণ বিরোধ দ্রুত সমাধানের চেষ্টা না করলে ভাঙ্গন বাড়ে।

এনসিপির বড় ভাঙ্গন নিয়ে প্রায়শ্নোত্তর (FAQ)

এনসিপি কী এবং কেন গঠিত হয়েছিল?

এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টি ২০২৫ সালে গঠিত। ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তরুণ নেতারা এটি গড়েন ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য।

কেন এনসিপির এত নেতা পদত্যাগ করছেন?

প্রধান কারণ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট। অনেকে মনে করেন এটা দলের আদর্শের বিপরীত।

কতজন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন?

জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন। আরও হতে পারে।

নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে কী বলেছেন?

তিনি বলেন, জোট শুধু নির্বাচনী, আদর্শিক নয়। পদত্যাগ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

এই ভাঙ্গনের ফলে এনসিপির ভবিষ্যৎ কী?

দল দুর্বল হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ নতুন প্ল্যাটফর্ম গড়ছেন।

উপসংহার: এনসিপির বড় ভাঙ্গন থেকে এগিয়ে যাওয়ার পথ

এনসিপির এই ভাঙ্গন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের দলটি এখন পরীক্ষার মুখে। কিন্তু রাজনীতিতে সংকট থেকেই নতুন পথ বের হয়।

দলের নেতৃত্বের উচিত অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র জোরদার করা এবং আদর্শে অটল থাকা। সমর্থকদের জন্য পরামর্শ: রাজনীতিতে ধৈর্য ধরুন, কারণ পরিবর্তন একদিনে আসে না। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন সিদ্ধান্তগুলোর ওপর।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।